জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে সর্বদলীয় বৈঠক করলেন নরেন্দ্র মোদি, বিশ্লেষকের প্রতিক্রিয়া
জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেখানকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ১৪ টি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়। গুরুত্বপূর্ণ ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আজ (শুক্রবার) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য ভানু সরকার রেডিও তেহারানকে বলেন, ‘২০১৯ সালের ৫ আগস্ট আইন করে ৩৭০ ধারা ও ৩৫-এ ধারা বাতিল করে ভারতের সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের যে সেতু তা ধ্বংস করে দিয়েছে। মোদি-শাহ যখন রাজনৈতিকভাবে সব জায়গায় আক্রমণাত্মকভাবে এগোচ্ছিলেন, তাঁরা হয়তো পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পরে একটা ধাক্কা খেয়েছে। উত্তর প্রদেশে নির্বাচনে ধাক্কা খেয়েছে। এভাবে ধাক্কা খাওয়ার পরে তারা এখন ভাবছে কোনও না কোনওভাবে আমাদেরকে আবার ভাবমূর্তি ফেরাতে হবে। যেসব অপকর্মগুলো তাঁরা করেছিলেন তা অপকর্মই আছে সেগুলোতে খানিকটা প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আজকে যাদের ‘গ্যাং’, ‘ক্রিমিন্যাল’ বলে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল আজ সেই গ্যাংদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হয়েছে। আজকে সরকার তো আলোচনায় বসল। কী ফল হল না হল সেটা পরের বিষয়। আমাদের কথা হল কাশ্মীর হল রাজনৈতিক সমস্যা। আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে তা মেটাতে হবে।’
‘জম্মু-কাশ্মীর থেকে অবিলম্বে সেনা ও আধাসামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে আলোচনায় বসতে হবে’ বলেও ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ভানু সরকার মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গত, গতকালের বৈঠক শেষে কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা গুলাম নবি আজাদ বলেন, ‘আমাদের পাঁচটি দাবি ছিল। অবিলম্বে জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিধানসভা নির্বাচন করাতে হবে, কাশ্মীরী পণ্ডিতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে, সব রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে ও আধিপত্য আইনে বদল আনতে হবে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।’
গণমাধ্যমে প্রকাশ, ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সব দলের উচিত দেশের ও দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করা। মন থেকে দূরত্ব ও দিল্লি থেকে দূরত্ব মুছে ফেলতে হবে।’ উপত্যকায় বিধানসভা নির্বাচন করা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শীঘ্রই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া শুরু হবে। তা সম্পূর্ণ হয়ে গেলে আগামী বছরই বিধানসভা নির্বাচন করা হবে। কিন্তু বৈঠক শেষে ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরে আসনবিন্যাসের কোনও প্রয়োজন নেই। আমরা কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মানছি না।’
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীরকে ভেঙে দু’টি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়- লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। বাতিল করা হয় সংবিধানের ৩৭০ নম্বর ধারা। কেন্দ্রীয় সরকারের ওই সিদ্ধান্তের প্রবল বিরোধিতা ও প্রতিবাদ হয়েছে উপত্যকায়। এতদিন কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বৈঠকে আহ্বান করেছিলেন সেখানকার ১৪টি রাজনৈতিক দলকে।
ওই বৈঠকে প্রায় প্রত্যেক দলের প্রতিনিধিই বক্তব্যের শুরুতেই দাবি করেন, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করে জম্মু-কাশ্মীরের মতো একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশের মর্যাদাহানি করা হয়েছে। বিষয়টি কাশ্মীরবাসীর আবেগ ও সম্মানকে ধাক্কা দিয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।