পেগাসাস ইস্যুতে সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাফাই দেওয়া উচিত: পি চিদাম্বরম
ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা পি চিদাম্বরম ইহুদিবাদী ইসরাইলি পেগাসাস স্পাইওয়্যারের সাহায্যে ফোনে আড়ি পাতা ইস্যু সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকারকে টার্গেট করে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং সরকারের উচিত এই সমস্ত অভিযোগ একটি ‘যৌথ সংসদীয় কমিটি’ দ্বারা তদন্ত করা উচিত অথবা এর তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বিচারক নিয়োগের আবেদন করা উচিত।’ তিনি আজ (রোববার) ওই মন্তব্য করেন।
কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম বলেন, ‘সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিবৃতি দেওয়া উচিত এবং গুপ্তচরবৃত্তি করা হয়েছিল কী না তা স্পষ্ট করা উচিত।’
গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’-এর রিপোর্টে প্রকাশ, পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে দেশের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা-নেত্রী, শিল্পপতি, ব্যবসায়ীসহ তিনশোর বেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং এরমধ্যে কমপক্ষে ৪০ জন সাংবাদিকের ফোনে আড়ি পাতা হয়েছে। ওই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এ সম্পর্কে আজ (রোববার) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র সম্পাদক ও কোলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজের সাবেক অধ্যাপক এবং বিশিষ্ট
সমাজকর্মী ড. ইমানুল হক রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘ভারতবর্ষে এতবড় প্রতারক ও দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার আসেনি। যারা জনজীবনের প্রত্যেকটা মুহূর্তকে নাভিশ্বাস ফেলতে বাধ্য করছে। রাজনীতিবিদ, ক্রীড়াবিদ, ছাত্রদের ফোন ট্যাপ করা হচ্ছে। বিভিন্ন লেখক, বুদ্ধিজীবি, সমাজকর্মীদের কম্পিউটারের মধ্যে জাল ইমেইল ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে কম্পিউটার হ্যাকিং করে। সুতরাং, এর একমাত্র রাস্তা হচ্ছে এই সরকারের পদত্যাগ করা। দ্বিতীয় পথ হচ্ছে, যৌথ সংসদীয় তদন্ত কমিটি বা ‘জেপিসি’ তদন্ত, যে কথাটা ’৯৪-’৯৫ সালে খুব শোনা গিয়েছিল এবং হয়েওছিল তখন। তৃতীয় রাস্তা হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের কোনও বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত করানো। আমি বলব সব থেকে ভালো পথ হচ্ছে সংসদে যারা বিরোধী দল আছে তাদের রাস্তায় নামার সময় হয়েছে। এই সরকারকে যেকোনো মূল্যে পদত্যাগ করানো ছাড়া এই দেশ বাঁচবে না। পেট্রোল, পেগাসাস, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ইত্যাদি একটার পর একটা সমস্যা বেড়েই চলেছে।’
‘এসব সমস্যা ঠেকানোর একটাই রাস্তা হচ্ছে, প্রচারণা, প্রতিবাদ, প্রতিবাদ এবং প্রতিবাদ’ বলেও মন্তব্য করেন পশ্চিমবঙ্গের ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র সম্পাদক ও কোলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজের সাবেক অধ্যাপক এবং বিশিষ্ট সমাজকর্মী ড. ইমানুল হক।
কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব অবশ্য এটিকে ভারতীয় গণতন্ত্রকে বদনাম করার ষড়যন্ত্র এবং ফোনে আড়ি পাতা কাণ্ডের বিষয়ে সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই বলে সাফাই দিয়েছেন। যদিও বিরোধীরা মন্ত্রীর ওই জবাবে সন্তুষ্ট নয়। তারা ওই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি এবং যৌথ সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/ বাবুল আখতার /২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।