ভিয়েনা আলোচনাকে সফল করতে ইরানের জোর কূটনৈতিক তৎপরতা
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i100076-ভিয়েনা_আলোচনাকে_সফল_করতে_ইরানের_জোর_কূটনৈতিক_তৎপরতা
অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আগামী ২৯ নভেম্বর পরমাণু সমঝোতা ইস্যুতে আলোচনা হতে যাচ্ছে। এবারের আলোচনায় ইরান বিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে তুলে নেয়ার বিষয়টি সবচেয়ে অগ্রাধিকার পাবে। এজন্য ইরানের কর্মকর্তারা জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তারা সংলাপকে সফল করতে হলে বেশ কিছু শর্তের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
নভেম্বর ১৬, ২০২১ ১৩:০০ Asia/Dhaka

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আগামী ২৯ নভেম্বর পরমাণু সমঝোতা ইস্যুতে আলোচনা হতে যাচ্ছে। এবারের আলোচনায় ইরান বিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে তুলে নেয়ার বিষয়টি সবচেয়ে অগ্রাধিকার পাবে। এজন্য ইরানের কর্মকর্তারা জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তারা সংলাপকে সফল করতে হলে বেশ কিছু শর্তের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইজি ডি মাওয়ের সাথে টেলিফোনালাপে ভিয়েনা বৈঠকের প্রাক্কালে আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তুর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, সব পক্ষ এ ব্যাপারে একমত যে পরমাণু সমঝোতায় অচলাবস্থার জন্য আমেরিকাই দায়ী। এদিকে, ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধান পরমাণু আলোচক আলী বাকেরি কানি গতকাল রাশিয়ার অন্যতম উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ এবং চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মা ঝাওঝুর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে আসন্ন ভিয়েনা আলোচনায় ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব লঙ্ঘন করে ইরানের ওপর আরোপিত অবৈধ মার্কিন সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ওপরই ভিয়েনা বৈঠকে সফলতার বিষয়টি নির্ভর করছে। এর আগে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন ও ব্রিটেন সফর করে ওই দেশগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতে আসন্ন পরমাণু আলোচনাকে সফল করতে হলে ইরান বিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। 

মার্কিন কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত ইরানের দাবির বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান নেননি যদিও তারা পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসার পথে বিরাজমান বাধা দূর করা থেকে এখনো বিরত রয়েছেন এবং তিনি ইরানের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউজের সাবেক নীতিই অনুসরণ করে চলেছেন। ভিয়েনায় চার যোগ এক গ্রুপের সঙ্গে ইরানের আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের ব্যাপারে জাতীয় জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরো এক বছর নবায়ন করেছেন। এ ছাড়া মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ও ইরানের ড্রোন শিল্পের সঙ্গে জড়িত থাকার অজুহাতে দেশটির আরো চার ব্যক্তি ও দুটি কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

মার্কিন সরকার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে এ পদক্ষেপ নেয়ার পর চীন ও রাশিয়া এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। চীন ও রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে পরমাণু সমঝোতায় অচলাবস্থার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বাস্তবতা হচ্ছে একদিকে মার্কিন বেআইনি নিষেধাজ্ঞা অন্যদিকে পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইউরোপও গড়িমসি করায় ইরান এবার কঠোর অবস্থানে গেছে এবং যে কোনো চুক্তি বাস্তবায়নের পূর্ণ নিশ্চয়তা চায়।  যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেছে সুতরাং তাদেরকেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। ফের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে না সে নিশ্চয়তাও তাদেরকে দিতে হবে। #      

পার্সটুডে /রেজওয়ান হোসেন/১৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।