ফের ইরান-মার্কিন পরমাণু আলোচনার ব্যবস্থা করতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার উদ্যোগ 
https://parstoday.ir/bn/news/event-i157780-ফের_ইরান_মার্কিন_পরমাণু_আলোচনার_ব্যবস্থা_করতে_আন্তর্জাতিক_পরমাণু_শক্তি_সংস্থার_উদ্যোগ
পার্স-টুডে: পরমাণু বিষয়ক আন্তর্জাতিক নজরদারি সংস্থা তথা আইএইএ’র মহাপরিচালক দাবি করেছেন, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নতুন পরমাণু চুক্তি বা সমঝোতা অর্জনের পটভূমি গড়ার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এই সংস্থা। 
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ১৩, ২০২৬ ১৬:৩১ Asia/Dhaka
  • আইএইএ’র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি
    আইএইএ’র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি

পার্স-টুডে: পরমাণু বিষয়ক আন্তর্জাতিক নজরদারি সংস্থা তথা আইএইএ’র মহাপরিচালক দাবি করেছেন, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নতুন পরমাণু চুক্তি বা সমঝোতা অর্জনের পটভূমি গড়ার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এই সংস্থা। 

আইএইএ’র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি আজ  (শুক্রবার) বলেছেন, ইরানের পরমাণু বিষয়ে একটি দীর্ঘ-মেয়াদি সমাধান বা সমঝোতা অর্জনের জন্য আবারও আলোচনা শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদী। 

রুশ বার্তা সংস্থা তাস এই খবর প্রচার করেছে এবং বলেছে যে গ্রোসি রাশিয়া ও আইএইএ’র মধ্যে পরামর্শমূলক আলোচনার পর মস্কোতে এইসব কথা বলেছেন। 

ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের নিষ্পত্তি করতে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত দুই বছরে এ পর্যন্ত দুই বার পরোক্ষ আলোচনায় মিলিত হয়েছে, কিন্তু দুইবারই এ আলোচনা মাঝপথে মার্কিন আগ্রাসনের কারণে বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে একটি দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে  ইরান বলেছিল,  একটি ন্যায্য সমাধানে পৌছার জন্য মার্কিন সরকারের রাজনৈতিক প্রস্তুতি ও আন্তরিকতা থাকলে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন সরকার আবারও ইরানে আগ্রাসন চালানোর মাধ্যমে সংলাপ প্রক্রিয়ার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে অচল করে দেয়।

পরমাণু আলোচনায় তথাকথিত বাহ্যিক অগ্রগতি সত্ত্বেও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিকভাবে একযোগে ইরানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে এবং এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ও ইরানের সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা শাহাদাত বরণ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে নিঃশর্ত আত্ম-সমর্পণ করার দাবি জানায় গত বছরের হামলার সময়কার দাবির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে।

এ অবস্থায় ইরানও গত ১৩ দিনে ব্যাপক পাল্টা হামলা করায় ইসরায়েল ও মার্কিন সরকার ব্যাপক ও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয় যা ক্রমেই যুদ্ধ বন্ধের জন্য ভেতরে-বাইরে মার্কিন সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ১৭টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদসূত্রগুলো উল্লেখ করেছে। ইরান যদিও পরমাণু আলোচনা চলার সময়ই বলেছিল যে দেশটি আলোচনা ও যুদ্ধ উভয়ের জন্যই প্রস্তুত কিন্তু তা সত্ত্বেও ট্রাম্প সরকার হয়ত কল্পনাও করেনি যে ইরান এত বেশি ধ্বংসাত্মক জবাব দেবে ও যুদ্ধের জন্য এত বেশি মাত্রায় প্রস্তুতি নিয়েছিল। 

ইরানের নব-নির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী (শহীদ সর্বোচ্চ নেতার দ্বিতীয় পুত্র) শহীদদের রক্তের বদলা নেয়ার জন্য যুদ্ধ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেয়ার পাশাপাশি শত্রুদের কাছ থেকে যে কোনো উপায়ে আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায় ও পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো তুলে নেয়ার দাবি জানিয়ে কথা বলেছেন। ইরানে আগ্রাসন চালানোর অপরাধে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা, ইসরায়েলে সামরিক সাহায্য দেয়া বন্ধ করা ও হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের জন্য ইরানকে কর দেয়ার প্রথা চালু করাসহ মোট সাতটি দাবি ইরানের পক্ষ থেকে জানানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে কোনো কেনো ইরানি সূত্র আভাস দিয়েছে। 

সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর দেয়া প্রথম ভাষণে (১২ মার্চ) আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়ে বলেছেন, শত্রুদের কাছে ক্ষতিপূরণ নেয়া হবে। তারা যদি তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় তাহলে আমাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের সম্পদ থেকে আমরাই সেই ক্ষতিপূরণ করে নেব। আর যদি সেটাও সম্ভব না হয় তাহলে আমাদের সম্পদের  যতটুকু ক্ষতি করা হয়েছে তাদেরও সেই পরিমাণ ক্ষতি আমরা করব।  # 
 

পার্স টুডে/এমএএইচ/১৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।