ভিয়েনায় চলছে স্বাসরুদ্ধকর আলোচনা: নিজ অবস্থানে অনড় ইরান
-
ভিয়েনা বৈঠক
ভিয়েনায় চার যোগ এক গ্রুপের সঙ্গে ইরানের পরমাণু আলোচনা চলার একই সময়ে ইরানের আলোচক দলের প্রধান আলী বাকেরি কানি আবারো বলেছেন, পরমাণু সমঝোতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক সব নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। তিনি বলেন, ভিয়েনা সংলাপে আমাদের প্রধান দাবি হচ্ছে, বিগত বছরগুলোতে অবৈধভাবে যেসব নিপীড়নমূলক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তার সবগুলো প্রত্যাহার করা। তিনি বলেন, চলমান আলোচনায় বহু বিষয়ে মত পার্থক্য কমে এসেছে।
ভিয়েনায় চার যোগ এক গ্রুপের সঙ্গে সপ্তম দফা যে আলোচনা চলছে তার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানের বিরুদ্ধে নিপীড়নমূলক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছা। এ বিষয়ে ইরানের উত্থাপিত প্রস্তাব নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। রুশ আলোচক দলের প্রধান মিখাইল উলিয়ানভ বলেছেন, সংলাপ প্রক্রিয়া ধীর গতিতে এগোলেও তাতে অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এদিকে, ইরান বিষয়ক মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি রব মলির সঙ্গে সাক্ষাত শেষে পরমাণু সমঝোতায় যুক্ত ইউরোপের তিনটি দেশের প্রতিনিধিরা এক বিবৃতিতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে পরমাণু সমঝোতা ধ্বংসে আমেরিকার নেতিবাচক ভূমিকার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে দাবি করেছেন, পরমাণু সমঝোতার বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়নে আলোচনার পথে পথে ইরান বাধা সৃষ্টি করছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পাশ্চাত্যের দেশগুলো ও তাদের গণমাধ্যমগুলো যতই ইরানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাক না কেন তাতে ইরান তার অবস্থান থেকে কোনোভাবেই সরে আসবে না বরং তাদের এ আচরণের কারণে পরমাণু সমঝোতা ও চলমান আলোচনা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে। ইরানের আলোচক দলের প্রধান ও উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী বাকেরি কানি বলেছেন, পাশ্চাত্যের আলোচকবৃন্দ কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে গিয়ে ইরানকে দোষারোপ করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু সমস্যা সমাধানে আমরা দ্রুত প্রস্তাব উত্থাপন করেছি যাতে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে মতবিরোধ কমিয়ে আনা যায়।
প্রকৃতপক্ষে, ইরান পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার জন্য সবচেয়ে বেশি চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু আমেরিকা ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির জন্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। অন্যদিকে ইউরোপও মুখে ইরানের অধিকার ও পরমাণু সমঝোতার প্রতি সমর্থন দিলেও বাস্তবে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়ে তারা কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। তাই পাশ্চাত্য যতই সময় ক্ষেপণ করবে ততই পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে। চলমান আলোচনাকে এগিয়ে নিতে ইরান নতুন নতুন প্রস্তাব দেয়াসহ এর সাফল্যের জন্য ব্যাপক আন্তরিকতা দেখিয়েছে। সুতরাং তেহরানও আশা করে প্রতিপক্ষও ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং তারা যেন পরমাণু সমঝোতার বাইরে অন্য কোনো দাবি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা থেকে বিরত থাকে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি মাজিদ তাখতে রাভানচিও বর্তমানে আমেরিকা ও ইউরোপকেই তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে উল্লেখ করে বলেছেন, ইরানকে এ নিশ্চয়তা দিতে হবে যে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে এবং আমেরিকা আর কখনো নিষেধাজ্ঞা দিতে দেবে না। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।