ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সাথে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের সাক্ষাত: সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বারোপ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী তেহরান সফরকারী সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে দেয়া সাক্ষাতে বলেছেন, সিরিয়ার জনগণ ও সরকারের প্রতিরোধ এবং একটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধে তাদের বিজয় সেদেশের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। একই সঙ্গে তিনি দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
এ সাক্ষাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সিরিয়া সরকারের বড় বড় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, 'আজকের সিরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সিরিয়ার পার্থক্য রয়েছে। এটা ঠিক যে, ঐ সময় ধ্বংসস্তূপ ছিল না, কিন্তু বর্তমানে দেশটির সম্মান ও মর্যাদা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে এবং সবাই সিরিয়াকে একটি শক্তি হিসেবে গণ্য করছে'। হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এ অঞ্চলের জনগণের কাছে সিরিয়ার জনগণ ও প্রেসিডেন্ট আসাদের উচ্চ মর্যাদার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, 'আমাদের এবং আপনাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর কিছু নেতা ইহুদিবাদী ইসরাইলের নেতাদের সঙ্গে ওঠবস করেন, একসঙ্গে বসে কফি খান। কিন্তু এসব দেশের জনগণই বিশ্ব কুদস দিবসে ব্যাপক সংখ্যায় রাস্তায় নেমে ইহুদিবাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এটাই এখন এই অঞ্চলের বাস্তবতা।'
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সাথে সাক্ষাতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদও সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে শহীদ কাসেম সোলাইমানির অবদানের কথা উল্লেখ করে সিরিয়ার প্রতি ইরানের সরকার ও জনগণের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, গত চার দশক ধরে ফিলিস্তিনের প্রতি ইরানের অকুণ্ঠ সমর্থন থেকে এ অঞ্চলের জনগণের কাছে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে ইরানের নীতি অবস্থান সঠিক। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ আরো বলেছেন, যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যাওয়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করা যায় কিন্তু নীতি আদর্শ ধ্বংস হয়ে গেলে সেটাকে ফিরিয়ে আনা যায় না। এ প্রসঙ্গে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ইমাম খোমেনি(র.) এর যে নীতি আদর্শ ও লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইরানের জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল বর্তমানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাও সেই একই পথে হাঁটছেন। এ কারণেই ইরানসহ এ অঞ্চলের প্রতিরোধকামী জনগণ বিশেষ করে ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য বৃহত্তর বিজয়ের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
২০১১ সাল থেকে সিরিয়া সরকার উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে এবং প্রেসিডেন্ট আসাদের এটা দ্বিতীয় দফা ইরান সফর। এর আগে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান, রাশিয়া ও সিরিয়ার যৌথ সাফল্যের পর যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট আসাদ ইরান সফরে এসেছিলেন।
প্রকৃতপক্ষে, ইসরাইল বিরোধী যুদ্ধে সিরিয়া ফ্রন্ট লাইনে থাকায় আসাদ সরকারের পতন ঘটানোর জন্য আইএস বা দায়েশ জঙ্গিদেরকে লেলিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সিরিয়ার সহযোগিতায় ইরান এগিয়ে আসে এবং আমেরিকা ও ইসরাইলের সমর্থনপুষ্ট সন্ত্রাসীদেরকে পরাজিত করে।
যাইহোক, ইরান মনে করে সিরিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং এ অঞ্চলে এ দেশটির শক্তিশালী উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের ইরান সফরকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।