আমেরিকার অনুকরণে কানাডার আদালতের ইরান বিরোধী পদক্ষেপ
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i11755-আমেরিকার_অনুকরণে_কানাডার_আদালতের_ইরান_বিরোধী_পদক্ষেপ
কানাডার একটি আদালত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ক্ষতিপূরণের জন্য ইরানিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। আমেরিকা ১৯৮৪ সালে সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থনদানকারী সরকারগুলোর তালিকায় ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করে। এরই ভিত্তিতে আমেরিকার স্থানীয় আদালতগুলোও কোনো প্রমাণ ছাড়াই একের পর এক ইরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে নানা ধরণের নির্দেশ জারি করেছে। মার্কিন নীতির অনুসরণ করে বর্তমানে কানাডার আদালতও ইরানের বিরুদ্ধে একই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুন ১১, ২০১৬ ১৪:০২ Asia/Dhaka

কানাডার একটি আদালত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ক্ষতিপূরণের জন্য ইরানিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। আমেরিকা ১৯৮৪ সালে সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থনদানকারী সরকারগুলোর তালিকায় ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করে। এরই ভিত্তিতে আমেরিকার স্থানীয় আদালতগুলোও কোনো প্রমাণ ছাড়াই একের পর এক ইরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে নানা ধরণের নির্দেশ জারি করেছে। মার্কিন নীতির অনুসরণ করে বর্তমানে কানাডার আদালতও ইরানের বিরুদ্ধে একই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেছে।

কানাডার অন্টারিও আদালত বলেছে, ১৯৮৩ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে বিস্ফোরণ, সন্ত্রাসী হামলা ও অপহরণের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারবর্গ সেখানে বসবাসকারী ইরানিদের কাছ থেকে স্থানান্তরযোগ্য কিংবা স্থানান্তরযোগ্য নয় এমন যে কোনো সম্পদ আদায় করে নিতে পারবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থলোভী কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে কানাডার আদালত ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরণের রায় দিয়েছে যার কোনো ভিত্তি নেই। ১৯৮৩ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আর্জেন্টিনা, লেবানন, ইসরাইল ও সৌদি আরবে সন্ত্রাসী হামলায় কানাডার বেশ কিছু নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আর এসব ঘটনায় ইরানকে জড়িত করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে কানাডার আদালত পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কানাডায় ২০১২ সালে সন্ত্রাসী হামলায় ‘ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা’ বিষয়ক একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। ওই আইনের আওতায় লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনের হামাসকে সমর্থন দেয়ার অপরাধে কানাডার ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকরা ইরানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের আবেদন করতে পারবে। মার্কিন স্থানীয় আদালতগুলো ইরানের ব্যাপারে যে আচরণ করেছে কানাডার আদালতও সেই একই পথ বেছে নিয়েছে। গত ২০ এপ্রিল মার্কিন আদালত সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের জন্য ইরানের ২০০ কোটি ডলার জব্দ করার নির্দেশ জারি করার মাত্র দুই মাস পর কানাডার আদালতও একই নির্দেশ দিল।

আমেরিকা ও কানাডার আদালতের এ অন্যায় পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইরানও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করার উদ্যোগ নিয়েছে। জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন বা ন্যামের সদস্য ১২০টি দেশও এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের অর্থ জব্দ করার মার্কিন আদালতের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। কানাডা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ন্যাশনাল পোস্ট লিখেছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইরানের প্রায় এক কোটি ডলার জব্দ করবে কানাডা সরকার। তবে কানাডায় অবস্থিত ইরান দূতাবাসের সম্পদ আদালতের নির্দেশের বাইরে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ দূতাবাসের কোনো সম্পদ জব্দ করা যাবে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কানাডা ও দখলদার ইসরাইলের মধ্য ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রয়েছে। এ কারণে কানাডা সরকারও মার্কিন ইহুদিবাদী লবির মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে ইরান বিরোধী পদক্ষেপ নিয়েছে। কানাডার আদালতে ইরানের বিরুদ্ধে যারা সাক্ষী দিয়েছে তাদের বেশিরভাগই আমেরিকান যারা কিনা ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য নিজ দেশের আদালতেও ইরানের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছে। অর্থাৎ দু’দিক থেকেই তারা অর্থ লাভের চেষ্টা করছে।

বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, কানাডা সরকার যে ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ আটকের পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে সেখানে পড়াশোনাকারী ইরানি ছাত্রদের লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংরক্ষিত আছে। কানাডার আদালতে ইরান সরকারের পক্ষের আইনজীবী কলিন স্টিভেনসন সাক্ষিদাতাদের মিথ্যা দাবি এবং অন্যায়ভাবে ইরানের অর্থ সম্পদ আটকের পদক্ষেপকে স্রেফ আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করেছেন। কানাডার স্থানীয় আদালত এমন সময় ইরানের অর্থ জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে যখন কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ২০১২ সাল থেকে ইরানের সঙ্গে বন্ধ হওয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় চালু করতে তারা আগ্রহী। #

পার্সটুডে/মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন/১১