ইরান নিয়ে দ. কোরিয়ার বক্তব্য: তেহরানের প্রতিক্রিয়া: সিউলের ব্যাখ্যা
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i118560-ইরান_নিয়ে_দ._কোরিয়ার_বক্তব্য_তেহরানের_প্রতিক্রিয়া_সিউলের_ব্যাখ্যা
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়া যেমন হুমকির মুখে রয়েছে তেমনি ইরানের পক্ষ থেকে হুমকির মুখে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তিনি তার ভাষায় বলেন, আমিরাতের নিরাপত্তা আমাদেরও নিরাপত্তা এবং ইরান হচ্ছে আরব আমিরাতের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
জানুয়ারি ১৭, ২০২৩ ১৫:১৭ Asia/Dhaka
  • দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট
    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়া যেমন হুমকির মুখে রয়েছে তেমনি ইরানের পক্ষ থেকে হুমকির মুখে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তিনি তার ভাষায় বলেন, আমিরাতের নিরাপত্তা আমাদেরও নিরাপত্তা এবং ইরান হচ্ছে আরব আমিরাতের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।

সম্প্রতি পারস্য উপসাগরীয় দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোতায়েন ১৫০ কোরীয় সেনাদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তৃতায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়ল এ কথা বলেছেন। ইরান তাৎক্ষণিকভাবে তার এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানয়ানি বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে ইরানের সম্পর্ক নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়ল যে হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্য দিয়েছেন তার বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নেই। কানয়ানি বলেন, সিউলের কাছ থেকে এই অবৈধ বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করে তেহরান।

ইরানের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ইরানের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়লের বক্তব্যকে ভুলবোঝাবুঝি হিসেবে অভিহিত করে এ সংক্রান্ত জটিলতা অবসানের চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট নিজ দেশের সৈন্যদের মনোবল ঠিক রাখতে এবং এ অঞ্চলের জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইরান-আমিরাত সম্পর্কের বিষয়ে এ মন্তব্য করেছেন।

গত ক'বছর ধরে ইরান ও দক্ষিণ  কোরিয়ার মধ্যে বেশ ভালে সম্পর্ক বিরাজ করলেও দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করায় তেহরান ও সিউলের মধ্যে আর্থ-রাজনৈতিকসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি ইরানে সম্প্রতি নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। যদিও এ ক্ষেত্রেও তারা তেহরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হয়েছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট এমন সময় আমিরাতের সাথে ইরানের বিদ্বেষপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন যখন বাস্তবতা ঠিক তার বিপরীত। কারণ ইরান তার প্রতিবেশী সব দেশের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করছে। এমনকি যেসব দেশের সাথে ভুলবোঝাবুঝি রয়েছে সেসবেরও অবসান ঘটানোর চেষ্টা করছে। তা ছাড়া, এ অঞ্চলের আরব দেশগুলোও ইরানের সাথে সর্বোচ্চ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় সাত বছর পর ফের ইরানের সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেইখ আব্দুল্লাহ বিন যেইদ আল নাহিয়ান প্রতিবেশী দুটি মুসলিম দেশ হিসেবে ইরানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যা দুদেশের জন্যই কল্যাণকর। আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শেইখ তাহনুন বিন যায়েদ আল নাহিয়ান গত ২০২১ সালে ডিসেম্বরে ইরানের প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসির সাথে সাক্ষাতে বলেছিলেন আমরা হচ্ছি এই এলাকার সন্তান এবং আমাদের ভাগ্য একই সুতায় গাথা। তাই ইরানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টিকে আমরা গুরুত্ব নেই। কুয়েতও ইরানের সাথে কিছু সীমান্ত সমস্যা ও গ্যাস ক্ষেত্র নিয়ে বিরাজমান সমস্যা থাকা সত্বেও ইরানের সাথে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মিশর ও জর্দানও ইরানের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। সৌদি আরবও ইরানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ অবস্থায় আমিরাত-ইরানের সম্পর্কের ব্যাপারে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের বক্তব্য হাস্যকর বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন /১৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।