ইরান-সৌদি সম্পর্কে মোড় মার্কিন ও পশ্চিমা কূটনীতির ব্যর্থতার সাক্ষ্য!
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i120956-ইরান_সৌদি_সম্পর্কে_মোড়_মার্কিন_ও_পশ্চিমা_কূটনীতির_ব্যর্থতার_সাক্ষ্য!
ইরান ও সৌদি আরব কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সম্মত হওয়ায় এ ঘটনাকে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন ও বিস্ময় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষক এবং পর্যবেক্ষক মহলের অনেকেই। চীনের মধ্যস্থতায় এ বিস্ময়কর ঘটনাটি ঘটে গেছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ২১, ২০২৩ ১৫:৫২ Asia/Dhaka

ইরান ও সৌদি আরব কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সম্মত হওয়ায় এ ঘটনাকে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন ও বিস্ময় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষক এবং পর্যবেক্ষক মহলের অনেকেই। চীনের মধ্যস্থতায় এ বিস্ময়কর ঘটনাটি ঘটে গেছে।

প্রায় সাত বছর ধরে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা বা টানাপড়েন চলে আসছিল। তেহরান ও রিয়াদ আগামী দুই মাসের মধ্যেই কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। এরই মধ্যে সৌদি আরব শিগগিরই ইরানে বিনিয়োগের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে এবং সৌদি রাজা সালমান ইসলামী ইরানের প্রেসিডেন্ট রায়িসিকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আর ইরানও এইসব অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তেহরান-রিয়াদ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া পাশ্চাত্য বা মার্কিন মধ্যস্থতায় না হয়ে চীনের মাধ্যমে হওয়ার ঘটনা পাশ্চাত্যের কূটনৈতিক অনমনীয়তা ও ব্যর্থতাকেই তুলে ধরছে।  আর এ বিষয়ে চীনের সাফল্যের কারণ হল  চীন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছে। 

অন্যদিকে মার্কিন সরকার মধ্যস্থতাকারী হলে তার চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী কোনো একটি পক্ষের ওপর নিজের দাবি-দাওয়া চাপিয়ে দিত! কিন্তু অনেকেই, বিশেষ করে পশ্চিমা শক্তিগুলো ও তাদের অনুরাগী বা প্রভাবিত মহলগুলো মার্কিন কূটনীতির এই বলদর্পিতাকে ইরান বিষয়ে ওয়াশিংটনের ব্যর্থতা বা অচলাবস্থার জন্য দায়ি না করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকেই এ জন্য দায়ি করে থাকেন! তারা বলে থাকেন যে ইরানের সর্বোচ্চ নেয়া আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী মার্কিন সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক সমাধানের বিরোধী! কিন্তু বাস্তবতা ঠিক এর বিপরীত!

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এটা স্পষ্ট করে কয়েক বছর আগেই বলেছেন যে সত্যিকারের আলোচনা বা সংলাপের বিরোধী তিনি নন। কিন্তু তাঁর ভাষায়, মার্কিন সরকার তো আলোচনা করে না, বরং ওয়াশিংটন সব সময় আলোচনার নামে তার দাবিগুলোকেই আদায় করে নিতে চায়! মার্কিন সরকার যখন বলে যে, 'আসুন আলোচনায় বসি, তার মানে এই নয় যে আসুন সমস্যার একটি ন্যায্য সমাধান বের করা হোক্। না, বরং এর অর্থ হল আলোচনার টেবিলে আমরা মার্কিন পক্ষ যা যা বলছি তোমরা তা মেনে নাও! আলোচনা বলতে ওরা এটাকেই বোঝায়!'

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা একই প্রসঙ্গে আরও বলেছেন, আসলে মার্কিন সরকার সব সময়ই আলোচনার নামে নানা ধরনের অযৌক্তিক আবদার, অবৈধ চাঁদা আর ছাড় আদায় করতে চায়। এ কারণেই মার্কিন সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যে ইরানের কোনো সমস্যার সমাধান হবে না তা প্রায়ই উল্লেখ করে থাকেন আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন'র সাংবাদিক ফরিদ জাকারিয়া মনে করেন সৌদি-ইরান সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘটনা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির এক গভীর ত্রুটিকেই তুল ধরছে যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও বেশি ত্রুটিপূর্ণ তথা গভীর হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অনমনীয়তা বা গোঁড়ামির দিককে দায়ি করে জাকারিয়া আরও বলেছেন, মার্কিন সরকারের শত্রুতাপূর্ণ আচরণের ফলে রাশিয়া, চীন, ইরান, কিউবা, ভেনিজুয়েলা, সিরিয়া, মিয়ানমার ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে মার্কিন সরকারের হয় কোনো সম্পর্ক নেই বা থাকলেও তা খুবই সীমিত পর্যায়ের! এই দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার পরিবর্তে দেশগুলোর সরকারের পতন ঘটানোর চিন্তাই মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিকে আগ্রাসী রূপ দিয়ে এসেছে বলে জাকারিয়া মনে করেন। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/২১