হজবাণী: আমেরিকার যুগ শেষ; নতুন ব্যবস্থা গড়তে বললেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i159690-হজবাণী_আমেরিকার_যুগ_শেষ_নতুন_ব্যবস্থা_গড়তে_বললেন_ইরানের_সর্বোচ্চ_নেতা
পার্সটুডে- ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সবোর্চ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন এবং মার্কন আধিপত্যের বাইরে থেকে একটি নতুন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।
(last modified 2026-05-26T09:26:48+00:00 )
মে ২৬, ২০২৬ ১৭:৪৪ Asia/Dhaka
  • আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী
    আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী

পার্সটুডে- ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সবোর্চ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন এবং মার্কন আধিপত্যের বাইরে থেকে একটি নতুন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।

পূর্ণাঙ্গ হজবাণী এখানে তুলে ধরা হচ্ছে-

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম 

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুলক।

হে আল্লাহ! আমি তোমার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছি। তোমার কোনো শরিক নেই। সমস্ত প্রশংসা, সমস্ত নিয়ামত এবং সমস্ত কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা তোমার পক্ষ থেকেই এবং সবই তোমার।

এ বছরের হজ মৌসুম আবারও উপস্থিত হয়েছে এবং ইসলামী উম্মাহর হাজিরা ইবাদতের ইহরাম পরিধান করে তালবিয়া পাঠ করছেন— “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক”— যাতে তারা বস্তুবাদী ও পার্থিব জীবন থেকে আল্লাহমুখী ও সৌভাগ্যময় জীবনের দিকে হিজরত করতে পারেন; এমন এক তাওহিদী জীবন, যা মহান ও সর্বোচ্চ আল্লাহর ইবাদতকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে এবং আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা মিথ্যা উপাস্যদের প্রত্যাখ্যান, অস্বীকার ও বর্জনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

কিন্তু এই হিজরতের সুযোগ কেবল এ বছরের বাইতুল্লাহর জিয়ারতকারী ও হাজিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি ইরানসহ সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাই ও বোনকে অন্তর্ভুক্ত করে— যারা জীবনের অতীত সময়ে হজ পালন করেছেন এবং যারা এখনো হজের সৌভাগ্য অর্জনের সুযোগ পাননি, সকলকেই।

এই হিজরতের শর্ত হলো আল্লাহর স্মরণকে কেন্দ্র করে স্থায়ী ইহরাম ধারণ করা; সত্যের কেন্দ্রকে ঘিরে অবিরাম তাওয়াফ করা; মহান আল্লাহর দায়িত্বসমূহের গুরুত্বপূর্ণ শিখরগুলোর মাঝে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালানো; প্রতারক শয়তান, তার প্রলোভনসঙ্কুল প্রকাশ এবং তার সকল অনুসারীর বিরুদ্ধে অবিরাম আঘাত হানা; মনোযোগ ও বিনম্র প্রার্থনায় নিমগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা; অসহায় দরিদ্র ও পথিকদের আহার করানো; স্বার্থপর কামনা ও বিভ্রান্তিকর প্রবৃত্তিগুলোকে কোরবানি করা এবং অন্তরের অপবিত্রতাগুলো দূর করা; আর সর্বাবস্থায় সত্যের সেবায় প্রস্তুত থাকা ও সত্য রক্ষার পতাকা সমুন্নত রাখা।

আর এভাবেই ইসলামী বিপ্লবের মীকাতে ইরানি জাতি এই মহান হিজরতের পথে পদার্পণ করেছিল। তারা মহান খোমেনির ইবরাহিমী আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল, পরাধীনতার পোশাক খুলে ফেলেছিল, দুনিয়া ও আখিরাতের সৌভাগ্যের ইহরাম পরিধান করেছিল এবং “লাব্বাইক” ধ্বনি উচ্চারণ করতে করতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিশুদ্ধ ইসলামী শিক্ষার কেন্দ্রকে ঘিরে তাওয়াফ করার চেষ্টা করেছিল; একইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী ন্যায়বিচার ও সর্বোচ্চ ঐশী অভিভাবকত্বের আলোকোজ্জ্বল নূরের নিকটবর্তী হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়েছিল।

আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। ওয়াল্লাহু আকবার। আল্লাহু আকবার। ওয়া লিল্লাহিল হামদ। আল্লাহু আকবার ‘আলা মা হাদানা। [আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তিনি আমাদের যে হিদায়াত দান করেছেন, সে জন্য আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।]

হ্যাঁ, আল্লাহু আকবার [আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ]।

আর এই [ঐশী] অস্ত্র— “আল্লাহু আকবার”— দিয়েই ৪৭ বছর আগে ইরানের মুসলিম জাতি জেগে উঠেছিল; তারা স্বৈরাচারী, একনায়কতান্ত্রিক ও পরনির্ভর পাহলভী শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করেছিল, লোভী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আমেরিকার আগ্রাসী হস্তক্ষেপ বন্ধ করেছিল এবং সম্পূর্ণভাবে জায়নবাদী প্রভাব নির্মূল করেছিল।

এই একই অস্ত্র— “আল্লাহু আকবার”— দিয়েই ইরানের আত্মত্যাগী মুজাহিদ ও নিঃস্বার্থ যুবকেরা আগ্রাসনের শিকার হওয়ার পর সাদ্দামের বাথ শাসনের বিরুদ্ধে আট বছরের পবিত্র প্রতিরোধের মহাকাব্য রচনা করেছিল এবং পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সব বৈশ্বিক শক্তির সমর্থন থাকা সত্ত্বেও ইরাকের তৎকালীন বাথ সরকারকে উচিত শিক্ষা দিয়েছিল।

তারা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে শত্রুদের অর্থনৈতিক অবরোধ, অভ্যুত্থান, অন্যায় নিষেধাজ্ঞা এবং অসংখ্য রাজনৈতিক, প্রচারমূলক ও অর্থনৈতিক হামলার মুখেও বহু বছর ধরে এই দৃঢ় প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছিল।

আল্লাহু আকবার...

এই “আল্লাহু আকবার”-এর অস্ত্রই মুসলিম উম্মাহ ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের তরুণ মুজাহিদদের পারস্পরিক বন্ধনকে শক্তিশালী করেছিল। এটা ঘটেছে ইরান থেকে লেবানন, ফিলিস্তিন, ইরাক ও সিরিয়া পর্যন্ত; আফ্রিকা ও ইয়েমেন থেকে আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং বিশ্বের সকল স্বাধীন জাতির মধ্যে— যাতে এই দৃঢ় রজ্জু [হাবলুল মাতিন] মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব রক্ষায় দখলদার জায়নবাদী আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে, দায়েশ [আইএসআইএস]-এর ষড়যন্ত্র চূর্ণ করতে পারে, “আল-আকসা ফ্লাড” সৃষ্টি করতে পারে এবং টলোমলো জায়নবাদী শাসনব্যবস্থাকে তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের অবস্থায় পৌঁছে দিতে পারে।

আরও আসছে...

পার্সটুডে/এসএ/২৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।