সিরিয়ায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকার কারণ ব্যাখ্যা করল ইরান
বায়তুল মোকাদ্দাস দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইল সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেই চলেছে। আজও তারা রাজধানী দামেস্ক ও এর উপকণ্ঠে বেশ কিছু স্থাপনার ওপর হামলা চালিয়েছে।
এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানয়ানি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। একই সাথে তিনি ইসরাইলি এ হামলার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। নাসের কানয়ানির মতে তার এ হামলার প্রথম কারণ হচ্ছে, তেলআবিবের এ ন্যক্কারজনক আগ্রাসনের ব্যাপারে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সমাজের নীরবতা। ইসরাইল শুধু গত কিছুদিন ধরে নয় বরং গত বেশ ক'বছর ধরে সিরিয়ার বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েই যাচ্ছে। এসব হামলায় সিরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক অনেক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। সিরিয়া জাতিসংঘের সদস্য দেশ হলেও নিরাপত্তা পরিষদ এখন পর্যন্ত ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এটা খুবই দুঃখজনক ও বিস্ময়কর যে সিরিয়ার বেসামরিক বিমানবন্দর ও আবাসিক এলাকার ওপর ইসরাইলি হামলার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমাজ একেবারে নীরব রয়েছে এবং এ কারণে ইসরাইল নির্বিঘ্নে আগ্রাসন চালিয়েই যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, ইসরাইল এটা বুঝতে পেরেছে যে তাদের ওপর বাইরের কোনো দেশের চাপ নেই এবং কোনো শাস্তিরও সম্মুখীন হতে হবে না।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানয়ানি ইসরাইলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকার দ্বিতীয় কারণ সম্পর্কে বলেছেন, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটও এর জন্য দায়ী। নেতানিয়াহু আবারো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর তার স্বেচ্ছাচারী নীতির বিরুদ্ধে সরকার বিরোধী আন্দোলন হচ্ছে। এছাড়া নেতানিয়াহুর মন্ত্রীসভা ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো ইসরাইলি কর্মকর্তা ইসরাইলের পতনের আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে এইসব সংকট থেকে জনমতকে ভিন্নতাতে প্রবাহিত করার জন্য নেতানিয়াহু সিরিয়ার বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে।
যদিও গত চার বছর ধরে ইসরাইলে রাজনৈতিক অস্থিরতা লেগেই আছে কিন্তু এবারই প্রথম অবৈধ এ রাষ্ট্রের পতনের ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন খোদ ইসরাইলের অনেক কর্মকর্তা। কারণ চলমান নিরাপত্তাহীনতা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণ ভেতর থেকেই ইসরাইল ধ্বসে পড়ার অবস্থায় পৌঁছে গেছে। এরই আলোকে সিরিয়ায় ইসরাইলি হামলার বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, ইসরাইলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকার তৃতীয় কারণ হচ্ছে, সিরিয়ার ব্যাপারে আরব দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন। চলতি বছর আরব দেশগুলো এমনকি সৌদি আরব ও কাতারের মতো প্রভাবশালী দেশ সিরিয়ার সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে সম্মত হয়েছে। আরব দেশগুলোর সাথে সিরিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নের এ উদ্যোগকে ইসরাইল কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। এইসব কারণে ইসরাইল সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।