ইরান পরমাণু বিষয়ে ধোঁকা দিয়েছে: মার্কিন কংগ্রেস কমিটি
মার্কিন কংগ্রেসের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটি গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইরান পরমাণু বিষয়ে ধোঁকা দিয়েছে।
পরমাণু সমঝোতার বার্ষিকীর প্রাক্কালে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অপবাদ প্রচারের লক্ষে এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরান পরমাণু-সমঝোতার সব সুযোগ-সুবিধাগুলোই ভোগ করবে, কিন্তু এর পাশাপাশি খুব দ্রুত একটি পরমাণু বোমা বানানোরও চেষ্টা করবে!
আমেরিকা এমন সময় ইরানের বিরুদ্ধে এমন অপবাদ প্রচারের উদ্যোগ নিলো যখন সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পাশ্চাত্য ইরানের পরমাণু ইস্যুটিকে ইসলামী এই দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুর সঙ্গে জুড়ে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত সপ্তায় জার্মান গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেছে, ইরান পরমাণু অস্ত্রের প্রযুক্তি ও সাজ-সরঞ্জাম অর্জনের গোপন প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
ইরান ‘প্রতারণা’ করেছে বলে অপবাদ দেয়া দেশটির পরমাণু বিষয়ে পাশ্চাত্যের দ্বিমুখী নীতিকে বৈধতা দেয়ারই চেষ্টা মাত্র। মার্কিন কংগ্রেস ইরানের পরমাণু বিষয়ক সমঝোতা লঙ্ঘনের চেষ্টা করছে বহু দিন ধরে। এই সমঝোতা-বিরোধী নানা বিল উত্থাপনেরও চেষ্টা করছে তারা। এ ছাড়াও খোদ মার্কিন সরকার তথা হোয়াইট হাউজও এই সমঝোতা-বিরোধী কাজ করে যাচ্ছে। যেমন, ইরানের ওপর ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে বলে মার্কিন সরকার দাবি করে আসলেও বাস্তবে তা প্রয়োগ করতে দিচ্ছে না এই সরকার। ইরানকে যাত্রীবাহী বিমান কিনতেও বাধা দিচ্ছে মার্কিন সরকার।
গত বছরের ১৪ জুলাই ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক পরমাণু-সমঝোতাটি স্বাক্ষর করেছিল ছয় বৃহৎ শক্তি। এই সমঝোতার প্রথম বার্ষিকীর প্রাক্কালে মার্কিন কংগ্রেস ইরান বিরোধী তিনটি নতুন বিল পাশের চেষ্টা করছে। এই বিলগুলো রিপাবলিকান সদস্যদের ভোটে পাশ হবে বলে মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।
এইসব প্রস্তাবের মূল দিকটি হল ইরানের ওপর নতুন নতুন কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। ইরান ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে এবং দেশটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয় ও দেশটি সন্ত্রাসবাদে সহায়তা দিচ্ছে-এইসব পুরনো অপবাদের অজুহাতেই এই বিলগুলো পাশ করা হতে পারে। অর্থনৈতিক ও বৈদেশিক লেন-দেনের ক্ষেত্রে ইরানকে মার্কিন ডলার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা এইসব প্রস্তাবের আরেকটি বড় লক্ষ। এই বিলগুলোর তৃতীয় বড় লক্ষ হল ইরানের পরমাণু ক্ষেত্রের ভারি পানি কেনা হতে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিরত রাখা।
পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী ইরান পরমাণু জ্বালানী ব্যবহারের ও তা সমৃদ্ধ করার অধিকার রাখে। নানা হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানি জাতির সংগ্রামের কাছে নতি স্বীকার করে বিশ্ব-শক্তিগুলো ইরানের এই অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
কিন্তু মার্কিন সরকার ইরানের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের ওপর থেকে নানা নিষেধাজ্ঞা এখনও তুলে নেয়নি। ফলে এসব ক্ষেত্রে ইরানের অর্থনৈতিক তৎপরতা পুনরায় শুরু হওয়ার বিষয়টি সময়-সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মার্কিন সরকার তার দেয়া ওয়াদা লঙ্ঘন করছে। অথচ এই সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ইরান পুরোপুরি মেনে চলেছে বলে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান আমানো বার বার রিপোর্ট দিয়েছেন।
সম্প্রতি মার্কিন ও ইসরাইলি লবির চাপের মুখে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পরমাণু সমঝোতার চেতনার জন্য গঠনমূলক নয়। তাই এটা স্পষ্ট, পরমাণু সমঝোতার ক্ষেত্রে ইরান নয় বরং মার্কিন সরকারই প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে এবং অঙ্গীকার লঙ্ঘন করছে। #
পার্সটুডে/মু.আ.হুসাইন/১২