মানবাধিকার ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের অভিযোগ ও বাস্তবতা
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রতিবেদনে গত বছর ইরানের মানবাধিকার বিষয়ে মিথ্যা দাবির পুনরাবৃত্তি করে দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে ইরানের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে আরো দাবি করা হয়েছে, মানবাধিকার পরিস্থিতির ব্যাপারে ইতিবাচক পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিবেদনে ইরানে অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, বাক স্বাধীনতা না থাকা, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং মানবাধিকার কর্মীদের গ্রেফতারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায়, সারা বিশ্বে ইরান আতঙ্ক সৃষ্টি করাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য এবং এ প্রক্রিয়া অনেক আগেই শুরু হয়েছে। পরমাণু কর্মসূচি, সন্ত্রাসবাদ ও মানবাধিকার এই তিনটি ইস্যুতে ব্রিটেন বহু বছর ধরে ইরান আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বিশ্লেষকরা ইরানের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের এ ষড়যন্ত্রকে দু’দিক থেকে মূল্যায়ন করছেন। প্রথমত, ব্রিটেন মিথ্যা দাবি তুলে ইরান বিরোধী যে প্রচারণা চালিয়ে আসছে তার উদ্দেশ্য হচ্ছে ইউরোপের সঙ্গে ইরানের দূরত্ব সৃষ্টি করা। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে মানবাধিকার বিষয়ে ব্রিটেনসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলোর দ্বিমুখী নীতির বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
আমেরিকা, ব্রিটেনসহ মানবাধিকারের দাবিদার পাশ্চাত্যের দেশগুলো সারা বিশ্বে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে। বিশ্বের গণমাধ্যমগুলোর কাছেও এ বিষয়টি গোপন নয়। কিন্তু তারপরও পাশ্চাত্যের দেশগুলো নিজেদেরকে মানবাধিকার রক্ষার পতাকাধারী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছে। আমেরিকা ও ব্রিটেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বলে বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এমনকি সেনা সমাবেশ পর্যন্ত ঘটিয়েছে তারা। তাদের দাবি ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই তারা অন্য দেশে হস্তক্ষেপ করে। আফগানিস্তান, ইরাক ও ইয়েমেনে হস্তক্ষেপই এর প্রমাণ। এ থেকেই বোঝা যায়, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো বিভিন্ন দেশে হস্তক্ষেপ এবং নিজ সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ হাসিলর জন্য মানবাধিকার বিষয়টিকে ব্যবহার করে। এরপরও মানবাধিকারের মিথ্যা দাবিদাররা ইরানের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। কারণ ইরান সরকার সন্ত্রাসী, খুনি, অপরাধী ও চোরাচালানকারীদের শাস্তি দিয়ে থাকে।
বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে আমেরিকা ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সরব হলেও দখলদার ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞের ব্যাপারে তারা কোনো কথা বলছে না। দায়েশের হাতে ফিলিস্তিনি শিশু জবাই, ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দামকে রাসায়নিক অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করা, মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ থেকে ইরানের যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করা এসব ব্রিটেন ও আমেরিকার কাছে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। এ ছাড়া, ইরাক ও আফগানিস্তানে আমেরিকা ও ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রিত জেলখানাগুলোতে অকথ্য নির্যাতনে বহু নিরপরাধ মানুষ মারা গেছে। আমেরিকা ও ব্রিটেনে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের সঙ্গে বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। ইসরাইল যেভাবে মজলুম ফিলিস্তিনিদের ওপর জুলুম নির্যাতন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে সে ব্যাপারেও লন্ডন ও ওয়াশিংটন সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে। এমনকি তারা বাহরাইন ও ইয়েমেনে সৌদি অন্যায় আগ্রাসনের প্রতিও সমর্থন দিচ্ছে। এ অবস্থায় ইরানের ব্যাপারে আমেরিকা ও ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের উচিৎ ভেবে চিন্তে কথা বলা।#
পার্সটুডে/মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন/২৩