ইরানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান কেন গুরুত্বপূর্ণ?
পার্সটুডে: ইরান তার অনন্য ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক মানচিত্রের কেন্দ্রে অবস্থান করছে। দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত ইরান কাস্পিয়ান সাগর, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে সরাসরি প্রবেশাধিকার থাকার ফলে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে বাণিজ্য ও জ্বালানি যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করছে।
পার্সটুডে জানিয়েছে, এই কৌশলগত ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ইরানকে অঞ্চল ও বিশ্ব রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।
ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদ দেশটির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেল মজুত ও দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত থাকার কারণে ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি কেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগর বিশ্বব্যাপী তেল রপ্তানির প্রধান পথ হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর এই পথগুলোর নিয়ন্ত্রণকারী দেশগুলোর অন্যতম হওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ইরানের প্রভাব সুদূরপ্রসারী।
ইরানের কৌশলগত সীমান্তগুলোর গুরুত্বও অপরিসীম। দেশটি ইরাক, তুরস্ক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলির সাথে সীমান্তবর্তী। এটি ইরানের আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মিথস্ক্রিয়ায় দেশটিকে এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করেছে। পাশাপাশি এসব সীমান্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক প্রবাহ ও মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এছাড়া পশ্চিম এশিয়া, মধ্য এশিয়া, ককেশাস ও পারস্য উপসাগরের সংযোগস্থলে ইরানের অবস্থান দেশটিকে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে একটি সেতুতে পরিণত করেছে। পারস্য উপসাগরের অংশ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি পথ হিসেবে পরিচিত, আর এই পথ নিয়ন্ত্রণে ইরানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সার্বিকভাবে বলা যায়, অনন্য ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান এবং বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের সমন্বয় ইরানকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/২৩