তেহরানের সামরিক শক্তির কাছে ওয়াশিংটনের কৌশলগত পশ্চাদপসরণ
-
ডোনাল্ড ট্রাম্প
পার্সটুডে: খ্যাতনামা আরব লেখক ও বিশ্লেষক আবদুল বারি আতওয়ান তাঁর এক নিবন্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, তিনি 'আমেরিকাকে আবার মহান' করার প্রতিশ্রুতি পালন করেননি; বরং ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা থেকে পিছু হটে যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে 'হাস্যকর প্রদর্শনী'তে পরিণত করেছেন।
আতওয়ান লিখেছেন, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য একটি চূড়ান্ত আঘাত হানা, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়।
তিনি আরও যোগ করেন: ইরানের সীমানার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া মার্কিন বোমারু বিমানগুলোকে ফিরিয়ে আনার আদেশ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ট্রাম্পের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগের পর। এই যোগাযোগের কারণ ছিল তেলআবিবের বিরুদ্ধে ইরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া এবং দখলকৃত অঞ্চলের গভীরে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা। এমন আক্রমণ ইসরাইলের ব্যাপক অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করতে পারত, একইসাথে অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকেও ঝুঁকিতে ফেলতে পারত।
এই আরব বিশ্লেষক ট্রাম্পের ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কমে যাওয়ায় হামলা বন্ধের দাবিকে 'দুর্বল ও অবিশ্বাস্য অজুহাত' বলে বর্ণনা করেন। তার মতে, পশ্চাদপসরণের আসল কারণ ছিল ইরানের প্রতিক্রিয়ার সম্ভাব্য সামরিক ও রাজনৈতিক পরিণতির ভয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রথম কোনো ইসলামি দেশ নিজস্ব সামরিক শক্তি ও জনসমর্থনের ওপর ভর করে প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে এবং হুমকির তোয়াক্কা না করে সরাসরি সংঘাতের ময়দানে প্রবেশ করেছে।
আতওয়ান ১২ দিনের যুদ্ধেরও উল্লেখ করে এটিকে ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে বর্ণনা করেন। তার মতে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে তেলআবিবের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোকে আঘাত করেছিল।
তিনি মনে করেন, এই ঘটনাই দখলদার ইসরায়েলি নেতাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং নতুন করে যেকোনো সামরিক হামলা বন্ধ করার জন্য তাদের দ্রুত চাপ সৃষ্টির প্রধান কারণ হয়ে ওঠে।
এরপর আতওয়ান তার নিবন্ধে তেলআবিবের সংঘাত বাড়াতে ভয় পাওয়ার চারটি মূল কারণ তুলে ধরেন। সেগুলো হলো: ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে হামলার ব্যর্থতা, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অক্ষমতা, অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা এবং যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ইরানের পারমাণবিক সীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা।
লেখক ইরানের বিপ্লবী নেতার বক্তব্যের উল্লেখ করে জোর দিয়ে বলেন, ইরানি জনগণের ঐক্যই ‘ফিতনা’ ও বাইরের চাপ মোকাবিলায় নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
নিবন্ধের শেষে, আতওয়ান রেজা পাহলভিকে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থনের ওপর ভরসা করা উচিত নয়। ইতিহাস প্রমাণ করেছে, সংকটের মুহূর্তে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব তাদের নিকটতম মিত্রদেরও ছেড়ে দেয়। এমন সমর্থনের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্ন আসলে নিছকই এক বিভ্রম।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৮