ইরানের শক্তির সামনে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমারা অসহায়: এক্স-এ ইরানিদের বার্তা
-
পশ্চিমা শক্তিগুলো ইরানের পরাক্রমের মুখে অসহায়
পার্সটুডে: ওমানের রাজধানী মাসকাটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইরানি ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন পোস্টে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ও জাতীয় শক্তির সামনে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, গতকাল (শুক্রবার) মাসকাটে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই নতুন দফার পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনা নিয়ে পার্স টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি ব্যবহারকারীরা এক্স–এ পোস্টের মাধ্যমে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই ইরান তার শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক অগ্রগতি অব্যাহত রাখবে।
“মোহাম্মদ সাজ্জাদ” নামের এক ব্যবহারকারী লেখেন, ইরানের পারমাণবিক জ্ঞান ও সক্ষমতার সামনে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, পুরো বিশ্বই জানে যে, ইরান এখন শুধু অঞ্চলেরই নয়, বরং বিশ্বের একটি প্রভাবশালী শক্তিশালী দেশ।
আরেক ব্যবহারকারী “হাদাফ” লিখেছেন, "বিপ্লবের বহু বছর পর, নিষেধাজ্ঞা ও হুমকির মধ্যেও ইরান একটি নির্ভরশীল ও পিছিয়ে থাকা দেশ থেকে একটি শক্তিশালী ও বৈজ্ঞানিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এমন এক রাষ্ট্রে, যার শক্তিকে তার শত্রুরাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।" তিনি বলেন, "আলোচনা হোক বা না হোক—ইরান শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক অগ্রগতির পথ থেকে সরে আসবে না।"
“এলহাম” নামের আরেকজন লিখেছেন, "বিপ্লবের পর সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশি চাপ সত্ত্বেও ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জ্ঞান অর্জন করেছে এবং সেই জ্ঞান ব্যবহার করছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিকিৎসা ও কৃষিকাজে। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির অধিকার থেকে ইরান কখনোই পিছিয়ে যাবে না।
এক্স–এর সক্রিয় ব্যবহারকারী “ইলদা মাশায়েখি” বলেন, "ইরানিরা বিপ্লব করেছে সম্মান অর্জনের জন্য, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে শক্তি ও সম্মান একসঙ্গে রাখার জন্য, আর এখন কোনো অবস্থাতেই তারা তাদের পারমাণবিক জ্ঞানের অগ্রগতি থেকে এক চুলও পিছিয়ে যাবে না।"
আরেক ব্যবহারকারী “আসমানি” লেখেন, "আজ ইরান দৃঢ়তার সঙ্গে উন্নয়ন ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিরোধমূলক অর্থনীতি ও আত্মনির্ভরশীলতার ওপর জোর দিয়ে দেশটি অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে। বিপ্লব ও মাতৃভূমির মূল্যবোধ রক্ষায় ইরানি জাতির সংগ্রামী মনোভাব ও দৃঢ়তা এমন এক শক্তি, যা শত্রুদের ব্যর্থ করে দিয়েছে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
এক্স ব্যবহারকারী “ফাতেমা” বলেন, স্বাধীনতা হলো ইসলামী বিপ্লবের সবচেয়ে বড় উপহার। ইসলামী বিপ্লব ইরানের জন্য অগ্রগতির পথ খুলে দিয়েছে। আজ ইরান বহু বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর কাতারে জায়গা করে নিয়েছে। এটি একটি মুক্ত জাতির ইচ্ছাশক্তির শক্তি।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জেনে রাখুক, ইরান শেষ পর্যন্ত এই পথেই থাকবে এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্ঞানের বিজয়ের শিখরে পৌঁছাবে।
সবশেষে “রোয়া” নামের এক ব্যবহারকারী লেখেন, "যুক্তরাষ্ট্রের আসল সমস্যা পারমাণবিক কর্মসূচি বা ক্ষেপণাস্ত্র নয়। তাদের সমস্যা হলো- সব নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরান উন্নতি করেছে এবং অন্য দেশগুলোর জন্য একটি উদাহরণে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একটি শক্তিশালী ইরানকে ভয় পায়।"
তিনি বলেন, "তারা কখনোই আলোচনার ওপর নির্ভর করেননি এবং করেনও না, তবে তারা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এবং বিপ্লবী নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখেন।"
এই প্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, ইরানি জনগণের একটি বড় অংশ মনে করে- ইরানের শক্তি, আত্মনির্ভরতা ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি পশ্চিমা শক্তিগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এ কারণেই তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চাপ ও বিরোধিতা চালিয়ে যাচ্ছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/৭