কূটনীতিকে দুর্বল করার ইসরায়েলি কৌশলের অংশ খাররাজি হত্যাকাণ্ড: জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের দূত
-
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি বলেছেন, ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কামাল খাররাজিকে ইসরায়েলের হত্যা করাটা শান্তিপূর্ণ আলোচনার প্রবক্তাদের কণ্ঠরোধ এবং পরিকল্পিতভাবে কূটনৈতিক পথকে দুর্বল করার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি পরিকল্পিত অপরাধমূলক আচরণেরই প্রতিফলন।
শুক্রবার জাতিসংঘের মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে লেখা এক চিঠিতে রাষ্ট্রদূত এই মন্তব্য করেন। এর একদিন আগে, ১ এপ্রিল তেহরানে নিজ বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আহত হয়ে ইরানের ‘স্ট্র্যাটেজিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস’-এর প্রধান খাররাজি মারা যান। ঘটনাস্থলেই তার স্ত্রী প্রাণ হারান।
ইরাভানি এই ইসরায়েলি হামলাকে “একটি জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং ভয়াবহ অপরাধ” বলে অভিহিত করেছেন, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন, বিশেষ করে জীবনধারণের অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ইরাভানি বলেন, খারাজি, যিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদের মূলনীতি ও উদ্দেশ্য এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতির প্রতি, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রতি, দৃঢ় অঙ্গীকার প্রদর্শন করেছেন।
তিনি আরো বলেন, সেই অনুযায়ী, তার হত্যাকাণ্ড কেবল একজন বেসামরিক নাগরিকের জীবননাশের বেআইনি বঞ্চনা নয়, বরং এটি কূটনীতি এবং শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার মৌলিক ভিত্তির ওপরও একটি আক্রমণ। ইরাভানি বলেন, খাররাজির হত্যাকাণ্ড আবারও প্রমাণ করে যে, ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থা আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি, সংলাপ এবং কূটনীতিকে সমর্থনকারী যেকোনো কণ্ঠকে তাদের বেআইনি, ধ্বংসাত্মক এবং অস্থিতিশীলকারী উদ্দেশ্যের পরিপন্থী বলে মনে করে।
ইরানি দূতের মতে, এই হত্যাকাণ্ড শান্তিপূর্ণ সম্পৃক্ততার প্রবক্তাদের কণ্ঠরোধ করা এবং পদ্ধতিগতভাবে কূটনৈতিক পথগুলোকে দুর্বল করার লক্ষ্যে পরিচালিত ইসরায়েলি অপরাধমূলক আচরণের একটি পরিকল্পিত ধারাকেও প্রতিফলিত করে।#
পার্সটুডে/এমবিএ/এমএআর/১১