ইরানি প্রেসিডেন্টের বাণী:
'ঈদুল আজহা জুলুম ও আধুনিক ফেরাউনদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বার্তা বহন করে'
-
মাসুদ পেজেশকিয়ান
পার্সটুডে: ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পবিত্র ঈদুল আজহাকে মহান আল্লাহর দরবারে আনুগত্য, আত্মত্যাগ ও আত্মসমর্পণের এক গৌরবময় নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সাথে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নানা হুমকি ও আগ্রাসনের মুখে জনগণের প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই ঈদের বাস্তব ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন।
পার্সটুডে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেওয়া এক অভিনন্দন বার্তায় এই মহান ঈদকে 'পার্থিব মোহ থেকে মানুষের সচেতনভাবে মুক্তির প্রতীক' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, কল্যাণ ও মুক্তির উজ্জ্বল দিগন্তে পৌঁছানোর জন্য এটি এক বড় পরীক্ষা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "বর্তমান অশান্ত পৃথিবীতে যেখানে অত্যাচারী ও দখলদারদের জুলুম এবং লোভের আগুন জ্বলছে, সেখানে ঈদুল আজহা মানবমর্যাদা, স্বাধীনতা এবং যুগের ফেরাউনদের ভয় না পাওয়ার এক জোরালো বার্তা দেয়।"
ইরানের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, "মুসলিম উম্মাহ ভালো করেই জানে যে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো নিজেদের মধ্যে ঐক্য, আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা এবং অন্যায় ও কুফরি শক্তির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।"
তিনি বলেন, "ইরান যেমন মুসলিম দেশগুলোর দিকে ভ্রাতৃত্ব ও সম্মানজনক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে, ঠিক তেমনি নিজের দেশের পবিত্র মাটির প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষা এবং জাতীয় স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবে না।"
প্রেসিডেন্টের পূর্ণ বাণী পার্সটুডের পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
"‘আল্লাহর কাছে তাদের (কোরবানির পশুর) গোশত বা রক্ত পৌঁছে না, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।’ (আল-কোরআন)
পবিত্র ঈদুল আজহা—যা আল্লাহর দরবারে আনুগত্যের এক গৌরবময় প্রকাশ, আত্মত্যাগের এক আলোকিত সূচনা এবং আত্মসমর্পণের সর্বোচ্চ নিদর্শন; এই মহান দিন উপলক্ষে আমি ইরানের বীর জনগণকে এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
ঈদুল আজহা হলো জাগতিক মোহ কাটিয়ে এবং মুক্তির আলো ছড়ানো দিগন্তে পৌঁছানোর জন্য বড় বড় পরীক্ষায় জয়ী হওয়ার এক সচেতন প্রতীক। তাওহীদের অগ্রদূত হযরত ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ (আ.) এই মহিমান্বিত দিনে মানবজাতিকে শিখিয়েছেন যে, প্রকৃত ঈমান শুধু মুখে নয়, বরং চরম কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরা, সত্যের ওপর অবিচল থাকা এবং আল্লাহর ইচ্ছার সামনে নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসকে উৎসর্গ করার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়।
আজ ইরানের মহান জনগণের জন্য ঈদুল আজহার এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বাস্তব ও অর্থবহ হয়ে উঠেছে। ইতিহাসের এমন এক মুহূর্তে যখন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি নানা অন্যায্য নিষেধাজ্ঞা ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তখন ঈদুল আজহার মূল চেতনা শহীদি পরিবারগুলোর দৃঢ়তায়, বীর যোদ্ধাদের সাহসিকতায় এবং এই জাতির অতুলনীয় ধৈর্য ও সহমর্মিতার মাঝে ফুটে উঠেছে। আমরা সবাই আজ সেই ইব্রাহিমী আদর্শেরই চর্চা করছি এবং বুদ্ধিমত্তা, সজাগ ঐক্য ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
আজকের এই অশান্ত পৃথিবীতে, যেখানে অত্যাচারী ও দখলদারদের জুলুমের আগুন জ্বলছে, সেখানে ঈদুল আজহা আমাদের মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং বর্তমান যুগের ফেরাউনদের ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানায়। মুসলিম উম্মাহ জানে যে, আল্লাহর বিজয়ের দরজা তখনই খুলবে যখন আমরা ঐক্যবদ্ধ হব এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়াব। ইরান যেমন অন্য দেশগুলোর সাথে সম্মানজনক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তেমনি নিজের দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় গৌরব রক্ষায় বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না।
আমি এই মহান ঈদকে শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশের সেইসব বীর শহীদদের স্মরণ করছি যারা দেশের নিরাপত্তা ও গৌরবের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমি মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই অবিচল ও পরিশ্রমী জাতিকে শান্তি, অগ্রগতি ও চূড়ান্ত বিজয় দান করেন।#
পার্সটুডে/এমএআর/২৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।