ইরানি নৌবাহিনীর সতর্কতামূলক গুলির মুখে ওমান সাগর ছাড়ল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i160056-ইরানি_নৌবাহিনীর_সতর্কতামূলক_গুলির_মুখে_ওমান_সাগর_ছাড়ল_মার্কিন_যুদ্ধজাহাজ
ওমান সাগরে টহলরত বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইরানি নৌবাহিনীর সতর্কতামূলক গুলির মুখে সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহার করে এই সতর্কতামূলক গুলি চালানোর পর মার্কিন জাহাজগুলো ওই এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
(last modified 2026-06-05T13:57:52+00:00 )
জুন ০৫, ২০২৬ ১৯:৫১ Asia/Dhaka
  • গাদির ক্ষেপণাস্ত্র
    গাদির ক্ষেপণাস্ত্র

ওমান সাগরে টহলরত বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইরানি নৌবাহিনীর সতর্কতামূলক গুলির মুখে সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহার করে এই সতর্কতামূলক গুলি চালানোর পর মার্কিন জাহাজগুলো ওই এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

আজ (শুক্রবার) ইরানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, "যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী নৌবাহিনী কর্তৃক বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার ছিনতাই, সমুদ্রসীমায় বিশৃঙ্খলা ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড" প্রতিহত করার অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ইরানের নৌবাহিনীর 'গাদির' ক্ষেপণাস্ত্র এবং নতুন 'শহীদ দানা' ড্রোনের মাধ্যমে সতর্কতামূলক গুলি চালানোর পর, অনুপ্রবেশকারী মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ডিডিজি-১০৩ এবং ডিডিজি-৮ ওমান সাগর ছেড়ে ভারত মহাসাগরের দিকে চলে যেতে বাধ্য হয়।”

পাশাপাশি ইরানি নৌবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ নামের একটি মার্কিন উভচর যুদ্ধজাহাজ ও হেলিকপ্টার ক্যারিয়ারকেও ওমান সাগর থেকে হটিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইরানি নৌবাহিনী জানায়, "সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইউএসএস জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের অধীনে থাকা জায়নবাদী ও মার্কিন শত্রুভাবাপন্ন ডেস্ট্রয়ারগুলোর পাশাপাশি 'ত্রিপোলি' হেলিকপ্টার ক্যারিয়ারটিও ওমান সাগর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে।"

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনীর 'ন্যাভাল অপারেশনস কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার' মার্কিন-ইসরায়েলি জোটকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তারা যেন অবিলম্বে এই "সামুদ্রিক চুরি ও বিশৃঙ্খলা" বন্ধ করে।

তারা আরও জানায়, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো বর্তমানে এই অভিযানে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সীমার বাইরে চলে গেলেও, ইরানের কাছে আরও দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। প্রয়োজন মনে করলে কোনো দ্বিধা ছাড়াই সেগুলোর ব্যবহার করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কোনো উস্কানি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনগোষ্ঠী যে আগ্রাসন শুরু করেছিল, তার জবাবে ইরান অন্তত ১০০টি সফল ও সুনির্দিষ্ট পাল্টা আঘাত হেনেছে। এসব হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোকে সফলভাবে আঘাত করা হয়। এছাড়া শত্রুভাবাপন্ন দেশ ও তাদের মিত্রদের জন্য হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় ইরান।

ইরান বারবার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের সার্বভৌম সমুদ্রসীমায় কোনো বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ বা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা তারা বরদাশত করবে না।

ইরানের এমন অনড় ও কঠোর অবস্থানের মুখে পড়ে গত ৮ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে বাধ্য হন। তবে পরবর্তীতে গত ১৩ এপ্রিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে ইরানের জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর অবৈধ নৌ-অবরোধ বহাল রাখার ঘোষণা দেন। এর পরপরই ইরান হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি আরও জোরদার করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার এক চূড়ান্ত সংঘাতের কথা উল্লেখ করে ইরানি নৌবাহিনী জানায়, তারা ওমান সাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের ভেতর থাকা "কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ড্রোল সেন্টার"কে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে, যা মূলত সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন চুক্তি লঙ্ঘনের মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছিল।

বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন আগ্রাসন এবং হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত চুক্তি লঙ্ঘনের সরাসরি জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।#

পার্সটুডে/এমএআর/৫