লস অ্যাঞ্জেলেসে সংবাদ সম্মেলনে ইরানি কোচ:
"দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের লক্ষ্য, ফলাফল আল্লাহর হাতে"
-
লস অ্যাঞ্জেলেসে সংবাদ সম্মেলনে ইরানি কোচ আমির কালেনোয়ি
২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ইরান জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ বলেছেন: "আমি আশা করি ফুটবল এমন একটি মাধ্যম হবে যা বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতিকে কাছাকাছি নিয়ে আসবে।"
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইরান জাতীয় ফুটবল দল আগামীকাল ভোরে (মঙ্গলবার) তেহরান সময় ৪:৩০ মিনিটে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের কোচ আমির কালেনোয়ি বলেন: "আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এক মহান ও শক্তিশালী দেশ ইরান থেকে এখানে উপস্থিত হতে পেরেছি। আমি আশা করি ফুটবল এমন একটি মাধ্যমে পরিণত হবে যা দেশ ও সংস্কৃতিগুলোকে একে অপরের কাছাকাছি নিয়ে আসবে।"
তিনি আরও বলেন: "আমরা এখানে এসেছি মহান ইরানি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে। আমরা কেবল ফুটবল নিয়েই ভাবছি। আমরা রাজনীতিবিদ নই এবং ফুটবল রাজনীতি থেকে আলাদা। তবে ইরানের সমস্ত মহান জনগণ আমাদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত।"
যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের নানাবিধ সমস্যা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কালেনোয়ি বলেন: "এইসব সমস্যার কারণে আমাদের ক্যাম্প দুইবার পরিবর্তন করতে হয়েছে, তবে মেক্সিকোর জনগণ এবং সরকারকে ধন্যবাদ জানানোর এটাই উপযুক্ত সুযোগ। আমরা ইরানিরা কঠিন পরিস্থিতি থেকে সুযোগ তৈরি করতে জানি। আমাদের দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো ছাড়া আমরা অন্য কিছু ভাবছি না, আর বাকি ফলাফল আল্লাহর হাতে।"
তিনি আরও বলেন: "পরিকল্পনা ছিল টুর্নামেন্ট শুরুর দুই সপ্তাহ আগে আমরা যুক্তরাষ্ট্র বা মেক্সিকোতে পৌঁছাব। এই দিক থেকে হয়তো আমাদের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে, তবে খেলোয়াড়রা সবাই ঐক্যবদ্ধ এবং নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত। অন্যান্য ফুটবলারদের মতোই তারাও তাদের হৃদয় উজাড় করে খেলে।"
কালেনোয়ি আরও বলেন: "যারা আমাদের এই কঠিন পরিস্থিতি বুঝতে পেরেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানাই। এই ধরনের আচরণ (ভ্রমণ সংক্রান্ত জটিলতা) ফুটবলের আত্মাকে কষ্ট দেয়। জয়-পরাজয় তো আবেগের ব্যাপার, তবে ফুটবল মূলত উপভোগ করার জন্য। আমাদের টেকনিক্যাল মনোযোগ কিছুটা ব্যাহত করা হয়েছে, কিন্তু আমি চেষ্টা করছি যেন দলের পুরো মনোযোগ কেবল টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর ওপরেই থাকে।"
নিউজিল্যান্ড দল সম্পর্কে তার ধারণা জানতে চাওয়া হলে প্রধান কোচ বলেন: "এখানে উপস্থিত প্রতিটি দলই নিজ নিজ অঞ্চলের অন্যতম সেরা, তা সে নিউজিল্যান্ড হোক বা আর্জেন্টিনা। সবাই অনেক কষ্ট করে এবং খেলে এখানে আসার যোগ্যতা অর্জন করেছে। নিউজিল্যান্ডের অনেক খেলোয়াড় বিদেশি লিগে খেলে এবং সেট-পিস বা ডেড বল পরিস্থিতিতে তারা বেশ বিপজ্জনক। আমরা এই দলের রক্ষণাত্মক কৌশলগুলো বিশ্লেষণ করেছি।"
ম্যাচগুলোতে সমর্থকদের উপস্থিতির ব্যাপারে তিনি বলেন: "লস অ্যাঞ্জেলেসে বিভিন্ন প্রজন্মের বহু ইরানি বসবাস করেন। আমরা আশা করি তারা অন্য সব বিষয় ভুলে মাঠে আসবেন, নিজেদের জাতীয় দলকে উৎসাহিত করবেন, ফুটবল উপভোগ করবেন এবং আমাদের শক্তি জোগাবেন।"
ম্যাচের ভেন্যুগুলো এবং মেক্সিকোর টিহুয়ানার (Tijuana) মধ্যে দলের বারবার যাতায়াত দলের পারফরম্যান্সে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন: "স্বাভাবিকভাবেই শহরগুলোর মধ্যে এই যাতায়াত কিছুটা প্রভাব ফেলে। তবে প্রোটোকল অনুযায়ী আমাদের একটি মূল ক্যাম্প রয়েছে যা মেক্সিকোতে অবস্থিত এবং আমরা সেখানে বেশ সুখে আছি। তারা আমাদের উৎসাহিত করছে এবং আমরা সেখানে ফিরে যেতে পছন্দ করব।"
বিশ্বকাপে সরদার আজমুনের অনুপস্থিতি নিয়ে ইরানের প্রধান কোচ বলেন: "আমরা ভালো ফুটবল খেলতে চাই এবং কোনো বিতর্কে জড়াতে চাই না। সরদার আজমুন একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় এবং জাতীয় দলের জন্য তিনি অনেক অবদান রেখেছেন, তবে এই ক্যাম্পে তিনি আমাদের সাথে নেই। আমরা তাকে পাশে পেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ফুটবল এমনই। উদাহরণস্বরূপ, নেইমার ব্রাজিলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়, কিন্তু কখনো কখনো তিনি সেরা ফর্মে থাকেন না এবং জাতীয় দলে ডাক পান না।"
উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরান ‘জি’ গ্রুপে খেলছে। এই গ্রুপে ইরানের প্রতিপক্ষ হলো বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে ইরানের প্রথম ম্যাচ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬ জুন, দ্বিতীয় ম্যাচ বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২১ জুন এবং শেষ ম্যাচ মিশরের বিপক্ষে ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে। গ্রুপের শীর্ষ দুই দল নকআউট পর্বে উত্তীর্ণ হবে।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৫