শক্তিশালী আলোচনার পূর্বশর্ত হলো যুদ্ধের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি: কলিবফ
-
ইরানি স্পিকার কলিবফের সঙ্গে আনসারুল্লাহ নেতা নুয়াইমির সাক্ষাৎ
পার্সটুডে: ইরানের পার্লামেন্ট মজলিসে শুরার স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি কেবল ইসলামি দেশগুলোর সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ঐক্য ও সংহতির মাধ্যমে ইসলামি দেশগুলোকে আরও কাছাকাছি আনতে হবে এবং তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আধিপত্য থেকে মুক্ত করতে হবে।
পার্সটুডে আরও জানিয়েছে, ইরানের শহীদ বিপ্লবী নেতার পবিত্র কফিনকে শেষ বিদায় জানানোর অনুষ্ঠানের অবকাশে রোববার ইয়েমেনের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং আনসারুল্লাহর সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আল-নুয়াইমি ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।
বৈঠকে কলিবফ শহীদ বিপ্লবী নেতার বিদায় অনুষ্ঠানে ইয়েমেনি প্রতিনিধি দলের উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। একইসঙ্গে তিনি অর্থনৈতিক অবরোধ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের জনগণ এবং আনসারুল্লাহর দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করে বলেন, আনসারুল্লাহ ও ইয়েমেনের জনগণ প্রমাণ করেছে তারা আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী পদক্ষেপ ও জুলুমের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তারা প্রতিরোধ ফ্রন্টের ঐক্যবদ্ধ শক্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি আরও বলেন, রমজান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ব্যর্থ হয়েছে। সাম্প্রতিক সমঝোতার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কার্যত ইরানের মিত্র প্রতিরোধ শক্তিগুলোর অস্তিত্ব ও ভূমিকা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে, যা এই সমঝোতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। ইরান ও প্রতিরোধ অক্ষ একযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং এই সমঝোতা সামরিক ও রাজনৈতিক-উভয় দিক থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পরাজয় এবং প্রতিরোধ অক্ষের জন্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কলিবফ জোর দিয়ে বলেন, শক্তিশালী আলোচনার পূর্বশর্ত হলো যুদ্ধের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি এক মুহূর্তের জন্যও আমাদের মধ্যে দুর্বলতা বা সংগ্রামি মনোভাবের ঘাটতি অনুভব করে, তাহলে তারা যুদ্ধের পথ বেছে নেবে।
তিনি ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন: আজ যেসব ইসলামি দেশ একসময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বলয়ের মধ্যে ছিল এবং ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছিল, তারাও বুঝতে পেরেছে-যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল তাদের জন্য নিরাপত্তা কিংবা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে না। তাই ঐক্য ও সংহতির মাধ্যমে ইসলামি দেশগুলোকে আরও ঘনিষ্ঠ করতে হবে।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের উপ-রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আল-নুয়াইমি প্রতিরোধ ফ্রন্টর ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় ইরানে যা ঘটেছে, তা পুরো প্রতিরোধ ফ্রন্টের জন্য একটি শিক্ষণীয় মডেলে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলোও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।#
পার্সটুডে/এনএম//৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।