কেন ইসলামাবাদ সমঝোতা সংকটে পড়ল?
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i161286-কেন_ইসলামাবাদ_সমঝোতা_সংকটে_পড়ল
পার্সটুডে- ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন এবং এর বাস্তবায়ন সংকটে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
(last modified 2026-07-14T08:42:03+00:00 )
জুলাই ১৪, ২০২৬ ১০:০৮ Asia/Dhaka
  • কেন ইসলামাবাদ সমঝোতা সংকটে পড়ল?

পার্সটুডে- ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন এবং এর বাস্তবায়ন সংকটে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

পার্সটুডের খবরে বলা হয়েছে, ইসমাইল বাকায়ি মন্তব্য করেন, “ইসলামাবাদ সমঝোতা যে সংকটের মধ্যে পড়েছে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কখনোই নিজের অঙ্গীকার ভঙ্গের উদ্যোগ নেয়নি; বরং যুক্তরাষ্ট্রই ধারাবাহিকভাবে প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে।”

যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে উত্তেজনা হ্রাস, যুদ্ধবিরতি স্থিতিশীল করা এবং নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর উদ্দেশ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের “আগাম ও ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের” কারণে চুক্তিটি এখন গভীর সংকটে রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেহরান বরাবরই সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। বাকায়ি বলেন, “ইরানকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত করার সুযোগ কারও নেই।” তাঁর দাবি, ১৪ দফার এই সমঝোতার বিভিন্ন অংশ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের কারণে কার্যত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তেহরান শুরু থেকেই “অঙ্গীকারের বিনিময়ে অঙ্গীকার” নীতিকে অনুসরণ করেছে। ইরানের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল আইনি বিরোধ নয়, বরং এটি পারস্পরিক আস্থার সংকট, যার শিকড় ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ইতিহাসে নিহিত।

বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয় হলো সমঝোতার পঞ্চম ধারা, যা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। বাকায়ির ভাষ্য অনুযায়ী, ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে এই ধারা এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছিল, যাতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে হরমুজ প্রণালির সামরিক অপব্যবহার ঠেকানো যায়।

তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক কিছু পক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলে এই ধারার বাস্তবায়ন ব্যাহত করেছে। এমনকি কিছু জাহাজকে তাদের ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ করতে উৎসাহিত বা বাধ্য করা হয়েছে, যা সমুদ্রপথে দুর্ঘটনা, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক জলপথে অনিরাপত্তা বাড়িয়েছে।

মাসকাটে অনুষ্ঠিত আলোচনাকে ঘিরে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যকেও প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসমাইল বাকায়ি। তিনি বলেন, “মিথ্যাচার এখন যুক্তরাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠীর আচরণের অংশে পরিণত হয়েছে।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দাবি যে, ইরান মাসকাট বৈঠকে সব বিষয়ে সম্মত হওয়ার পরও জাহাজে হামলা চালিয়েছে, তা “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাকায়ির মতে, মাসকাটের আলোচনা কেবল হরমুজ প্রণালি ও সমঝোতার পঞ্চম ধারা নিয়ে সীমাবদ্ধ ছিল। ইরান ওমানের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে নিরাপদ নৌ চলাচলের একটি কাঠামো গড়ে তুলতে চেয়েছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের “প্রকাশ্য ও গোপন চাপ” সেই উদ্যোগকে ব্যর্থ করে দেয়।

ইরানের দাবি, ইসলামাবাদ সমঝোতার সংকট কেবল হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ, অব্যাহত নিষেধাজ্ঞা এবং একতরফা পদক্ষেপ সমঝোতার মূল উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

তেহরানের অবস্থান হলো, যদি কোনো চুক্তির এক পক্ষ একই সঙ্গে সামরিক শক্তি, রাজনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার আশ্রয় নেয়, তাহলে সেই সমঝোতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।

ইরান মনে করে, ইসলামাবাদ সমঝোতা এখনো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি; তবে এর পুনরুজ্জীবন নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ পরিবর্তন এবং চুক্তির প্রতি পূর্ণ অঙ্গীকারের ওপর। তেহরানের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে উপকূলীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক উদ্যোগের মাধ্যমে, বাইরের শক্তির সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে নয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, “অঙ্গীকারের বিনিময়ে অঙ্গীকার” নীতি মেনে চললেই কেবল কোনো সমঝোতা টেকসই হতে পারে। অন্যথায়, একতরফাভাবে চুক্তি লঙ্ঘন করে অপর পক্ষের কাছ থেকে পূর্ণ বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করলে তার পরিণতি হবে আরও গভীর সংকট।#

পার্সটুডে/এমবিএ/১৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।