বিদেশি উসকানির পরও ইরান- ইরাক আবারও বন্ধু হয়েছে: কলিবফ
-
কলিবফ (বামে) ও আল জায়েদি (ডানে)
পার্সটুডে- ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালাহ আল-জায়েদির সঙ্গে বৈঠকে বলেছেন, ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণে ইরান ও ইরাকের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের অসাধারণ সুযোগ রয়েছে।
একই সঙ্গে আঞ্চলিক পর্যায়ে মুসলিম ও আরব দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রেও দুই দেশ একসঙ্গে অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
পার্সটুডে জানিয়েছে, কলিবফ বুধবার বিকেলে বাগদাদে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে দায়েশ (আইএস) সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাককে ইরানের সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ইরান ও ইরাকের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার বন্ধন এতটাই গভীর যে, সাদ্দাম সরকারের আমলে বিদেশি শক্তিগুলোর উসকানিতে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বাধার পরও অল্প সময়ের মধ্যেই দুই জাতি আবার পরস্পরের কাছাকাছি চলে আসে।
কলিবফ আরও বলেন, দায়েশ বা আইএস'র হামলার সময় ইরাককে রক্ষায় সহায়তা করতে ইরানের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছিল। এটি দুই দেশের জনগণের গভীর বন্ধুত্বেরই প্রমাণ।
তিনি বলেন, ইরাককে সহায়তা করার ক্ষেত্রে ইরান শিয়া, সুন্নি, কুর্দি, আরব বা অনারব—কোনো জাতিগোষ্ঠী কিংবা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পার্থক্য করেনি। জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না; মূল বিষয় ছিল ইরাককে রক্ষা করা। এ কারণেই আইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ইরাকের পাশে দাঁড়ানোকে ইরান নিজেদের দায়িত্ব মনে করেছিল এবং এ পথে অনেক মূল্যবান প্রাণও বিসর্জন দিয়েছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালাহ আল-জায়েদি বলেন, ইরান ও ইরাককে তারা দুটি দেশে বসবাসকারী একই জাতি হিসেবে দেখেন। তিনি বলেন, ইতিহাস ও ভূগোলের দিক থেকে দুই দেশের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে এবং তাদের ভাগ্যও একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
তিনি আরও বলেন, আইএস সংকটের সময় ইরাকের সাহায্যের আহ্বানে ইরানই প্রথম সাড়া দিয়েছিল, যা ইরাকের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি ইরাকের জন্য এক ধাপ এগিয়ে আসে, ইরাকও তার জন্য বড় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকবে।#
পার্সটুডে/এসএ/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন