হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের নীতিগত অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অচলাবস্থা
-
হরমুজ প্রণালি
পার্সটুডে-ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ দিয়ে কোনো জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেবে না ইরান।
তাঁর ভাষায়, হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ওই পথ দিয়ে জাহাজ পার করার চেষ্টা করলেও তা প্রতিহত করা হবে।
কলিবফ বলেন, যুদ্ধের আগে প্রতিদিন অন্তত ১২০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। বর্তমানে দুই-একটি কিংবা সীমিতসংখ্যক জাহাজ চলাচল করলেও তা আগের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনীয় নয়। যুক্তরাষ্ট্র জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার হওয়ার আশ্বাস দিলেও সেগুলো হামলার শিকার হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের এই অবস্থানের অন্যতম ভিত্তি হলো ১৭ জুন ২০২৬ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা। ইরানের দাবি, সমঝোতায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও তা ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করেই বাস্তবায়ন করতে হবে। ওমানের সঙ্গে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার কথাও এতে রয়েছে। তাই ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি পৃথক করিডোর তৈরির মার্কিন প্রচেষ্টাকে তেহরান সমঝোতার পরিপন্থী হিসেবে দেখছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ, নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এখন পর্যন্ত ইরানকে পিছু হটতে বাধ্য করতে পারেনি। বরং এসব পদক্ষেপ হরমুজ প্রণালিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অন্যতম প্রধান ফ্রন্টে পরিণত করেছে।
ইরানের দৃষ্টিতে, হরমুজে নৌ চলাচল পুনরুদ্ধার করতে হলে তা একতরফাভাবে নয়, বরং ইসলামাবাদ সমঝোতার কাঠামোর আওতায় ইরানের অংশগ্রহণ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে করতে হবে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলীয় বিকল্প পথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা নতুন করে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিতে বর্তমান অচলাবস্থা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে সহজে সমাধান করা সম্ভব নয়। ইসলামাবাদ সমঝোতার শর্ত মেনে আলোচনার পথে ফিরে আসাই এই সংকট থেকে বের হওয়ার সম্ভাব্য পথ।#
পার্সটুডে/এনএম/২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।