যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে একদিন এ অঞ্চল থেকে সরে যেতেই হবে: ইরান
পার্সটুডে- ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে এক বিবৃতিতে বলেছে, সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ করে ইসলামি বিপ্লবের বীর সেনারা ট্রিগারে আঙুল রেখে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে দৃঢ় ও ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে- আট বছরের পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধ শুধু একটি সামরিক ঘটনা ছিল না; এটি ছিল সামাজিক পুঁজি, জাতীয় সংহতি ও কৌশলগত আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার এক প্রশিক্ষণক্ষেত্র। এই যুদ্ধ ইরানি জাতিকে শিখিয়েছে যে, প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে গভীর বিশ্বাস, ঐক্য এবং নেতৃত্ব ও জনগণের পারস্পরিক বন্ধনে। বর্তমানে সেই শিক্ষা একটি বুদ্ধিদীপ্ত ও বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় রূপ নিয়েছে, যা ভৌগোলিক সীমারেখা ছাড়িয়ে জ্ঞানভিত্তিক, সাইবার, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষেত্রেও প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করেছে।
বিবৃতিতে ইরানের প্রতিরোধমূলক শক্তি ও সামরিক সক্ষমতার পরিপক্বতার কথা উল্লেখ করে বলা হয়- নিজস্ব জ্ঞান, কৌশলগত উদ্ভাবন ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার ওপর নির্ভর করে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা যেকোনো হুমকিকে তার উৎসেই নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম। দ্বিতীয় ও তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধে ‘সত্য প্রতিশ্রুতি’ নামে পরিচালিত অভিযানগুলোর ব্যাপক ও শক্তিশালী প্রভাবের মাধ্যমে এই সক্ষমতার ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত বিশ্ববাসীর সামনে এসেছে। এসব অভিযান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থকদের কথিত শক্তির ভিত নড়িয়ে দিয়েছে এবং প্রতিরোধ ফ্রন্ট ও ইরানি জনগণের অনুকূলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে পুনর্বিন্যাস করেছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
বিবৃতির অন্য অংশে শহীদ ইমাম আয়াতুল্লাহ আল-উজমা ইমাম খামেনেয়ির মর্যাদা ও ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সশস্ত্র বাহিনীগুলোর সমন্বয় ও ঐক্যের ওপর জোর দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, বিপ্লবের সেনারা, সাহসী বাসিজ সদস্যরা এবং শক্তিশালী ইরানের জন্য আত্মোৎসর্গে প্রস্তুত জনগণ—শহীদ নেতার রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার প্রত্যয়ে—পূর্ণ প্রস্তুতি ও সর্বাত্মক সতর্কতার সঙ্গে রয়েছে। শত্রুপক্ষ কোনো ভুল হিসাব করলে তাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় ও ধ্বংসাত্মক জবাব দেওয়া হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এই বাস্তবতা বুঝতে হবে যে, তাদের একদিন না একদিন এই অঞ্চল থেকে নিজেদের কথিত অপবিত্র ও অপরাধমূলক উপস্থিতি সরিয়ে নিতে হবে। আল্লাহর রহমতে তারা এই পরিণতি এড়াতে পারবে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।#
পার্সটুডে/এসএ/২২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।