মোহসেন রেজায়ি: ইরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না
পার্সটুডে—ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আগে ইরানের সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে। তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্দেশে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিমান চলাচলে বাধা দেওয়া হলে তাদের বিমান চলাচলেও একই ধরনের বাধা দেওয়া হবে।
তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বুধবার ইরানের টেলিভিশন নিউজ নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বক্তব্য এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রসঙ্গে কথা বলেন।
রেজায়ি বলেন, “ট্রাম্প জাতিসংঘে অবাস্তব ও ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়েছেন। আমার মতে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ওই ভাষণ ছিল ট্রাম্পের ঐতিহাসিক ভুলগুলোর একটি। কারণ তিনি পরাজিত অপরাধীর মতো নিজের কর্মকাণ্ডের সাফাই দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘে ট্রাম্পের পুরো ভাষণ ছিল “একজন পরাজিত অপরাধীর আত্মপক্ষসমর্থন”, যার উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ব জনমতকে প্রভাবিত করা। রেজায়ির দাবি, মার্কিন গণমাধ্যমও ট্রাম্পের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং তাঁর বক্তব্য সম্প্রচারের সময় মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাকে তিনি এরই প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি এটিকে “চরম ব্যর্থতা” বলে অভিহিত করেন।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আরও বলেন, বিপ্লবের শুরু থেকে ইরান কোনো দেশের ওপর হামলা করেনি; বরং আত্মরক্ষা করেছে। সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে তিনি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ তুলে বলেন, তাঁদের কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বে ব্যাপক সন্ত্রাস সৃষ্টি হয়েছে এবং ২৫ হাজার শিশু নিহত হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, “এগুলো কি সন্ত্রাসবাদ নয়? নাকি আমরা, যাদের সন্তানরা স্কুলে শহীদ হয়েছে, তারাই সন্ত্রাসী?”
মেজর জেনারেল রেজায়ি আরও দাবি করেন, ট্রাম্পের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে পরাজয়ের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, ট্রাম্পের নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাঁর সমর্থক দলের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি পরিস্থিতি, কৌশলগত মজুত এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বিষয়ও উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবে নিজেদের হতাহতের সংখ্যা গোপন করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানের বিজয়ের কারণ সম্পর্কে রেজায়ি বলেন, “বিশ্বের অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই যুদ্ধে ইরান বিজয়ী হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধের পর ইরান এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে দেশটিকে আর যুদ্ধের আগের অবস্থার মতো দেখা হয় না এবং সামরিক সক্ষমতা ও অগ্রগতির দিক থেকে ইরান বিশ্ব ও অঞ্চলে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
রেজায়ি বলেন, ইরানের বর্তমান শর্তগুলো অতীতের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের মোট সাতটি শর্ত রয়েছে এবং এসব শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, “আমি আগেও বলেছি, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার জন্য আমেরিকানরাই এমন পরিস্থিতি তৈরি করে।”#
পার্সটুডে/এমবিএ/২৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।