জাতিসংঘে পেজেশকিয়ানের বক্তব্য মার্কিন গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার
-
পেজেশকিয়ান
পার্সটুডে- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ভাষণ বিশ্বের অন্যান্য গণমাধ্যমের পাশাপাশি মার্কিন সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের আত্মসমর্পণ না করার অবস্থানসহ ভাষণের বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পেয়েছে।
পার্সটুডে জানিয়েছে, মার্কিন পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের দ্বিতীয় দিনে পেজেশকিয়ানের ভাষণ নিয়ে প্রতিবেদনে লিখেছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বা দাদাগিরির কাছে নতি স্বীকার করবে না এবং তার পারমাণবিক কর্মসূচি থেকেও সরে আসবে না।
নিউ ইয়র্ক টাইমস উল্লেখ করেছে, ইরানই প্রথম কোনো দেশ যার রাষ্ট্রপ্রধান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত থাকা অবস্থায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশ নিচ্ছেন।
পত্রিকাটি লিখেছে, পেজেশকিয়ান সাধারণ পরিষদের কূটনৈতিক মঞ্চকে ইরানের অবস্থান তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইরান তার শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসবে না, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনীতির দরজাও খোলা রেখেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি জানিয়েছে, জাতিসংঘে এক দৃঢ় ভাষণে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলকে বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পেজেশকিয়ানের ভাষণ ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা। এর একদিন আগে ট্রাম্প জাতিসংঘে বলেছিলেন, প্রায় সাত মাসের যুদ্ধের পর ইরানকে ‘ধ্বংস’ করা হবে কি না, তা তিনি বিবেচনা করছেন।
সিএনবিসি জানায়, পেজেশকিয়ান ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের শিকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার দেশ ‘শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত’ প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে।
এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, ট্রাম্পের হুমকির পর পেজেশকিয়ান তার ভাষণে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিহত শিশুদের ছবি প্রদর্শন করে বেসামরিক হতাহতের বিষয়টি তুলে ধরেন।
এনবিসি নিউজ তাদের প্রতিবেদনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পেজেশকিয়ানের পক্ষ থেকে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর ছবি প্রদর্শনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস লিখেছে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কূটনৈতিক মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সরাসরি ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ করেছেন—এমন এক সময়ে, যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অক্ষের সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।#
পার্সটুডে/এসএ/২৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।