মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরান ইস্যুতে বিতর্ক বাড়ছে
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i16408-মার্কিন_প্রেসিডেন্ট_নির্বাচনকে_সামনে_রেখে_ইরান_ইস্যুতে_বিতর্ক_বাড়ছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতার বিষয়টি মার্কিন সংবাদ ও রাজনৈতিক মহলের বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
আগস্ট ০৪, ২০১৬ ১৩:৩৫ Asia/Dhaka

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতার বিষয়টি মার্কিন সংবাদ ও রাজনৈতিক মহলের বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

আমেরিকার কোনো কোনো মহল এটা তুলে ধরার চেষ্টা করছে যে, ওবামা সরকার পরমাণু সমঝোতার মাধ্যমে ইরানকে অন্যায় সুবিধা দিয়েছে। এ ধরণের অভিযোগ তুলে ওই মহলটি আসলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর আঘাত হেনে নির্বাচনী প্রচারণায় ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। ইরান বিরোধী প্রচারণার অংশ হিসেবে তারা ইরানে আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির বিনিময়ে আমেরিকার পক্ষ থেকে ৪০ কোটি ডলার তেহরানকে দেয়ার দাবিও করেছে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞার অজুহাত দেখিয়ে মার্কিন সরকারই এতদিন ধরে ইরানের নিজস্ব অর্থ আটকে রেখেছিল।

প্রকৃতপক্ষে, নিজেদের অশুভ লক্ষ্য বাস্তবায়ন করার জন্য আমেরিকা যে কোনো ছল চাতুরি বা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে থাকে। পরমাণু সমঝোতার পর আমেরিকা এখনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গতকাল(বুধবার) বলেছেন, তেহরানে আটক পাঁচ মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেয়ার পরপরই আমেরিকা ইরানকে ৪০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে। যদিও রিপাবলিকান দলের কেউ কেউ এটাকে মার্কিন ব্ল্যাক-মেইল কিংবা প্রতারণা বলতে রাজি নয়। প্রকৃতপক্ষে, সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য এই পরিমাণ অর্থ ইরানে ইসলামী বিপ্লবের আগে তৎকালীন সরকার আমেরিকাকে দিয়েছিল। কিন্তু বিপ্লবের পর আমেরিকা সেই অর্থ অন্যায়ভাবে আটকে দেয়। 

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জশ আর্নেস্ট সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, রিপাবলিকানরা বহুদিন ধরে ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতার বিরোধিতা করে আসছেন। এ কারণে তারা এখন নিজেদের অবস্থানের পক্ষে ব্যাখ্যা তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছেন। রিপাবলিকান নেতারা হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আমেরিকার সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে তা কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও চুক্তিতে সইকারী অন্য দেশের প্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত বিষয়। তাই আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা মেনে চলতে বাধ্য নন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, আমেরিকা এখনো পরমাণু সমঝোতার কিছুই বাস্তবায়ন করেনি। কিন্তু তারপরও মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। মার্কিন সরকার এখনো ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিপুল অর্থ আটকে রেখেছে এবং নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেয়নি। এ কারণে ইরান জাতিসংঘের মাধ্যমে পরমাণু সমঝোতার আওতায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার চেষ্টা করছে। কেননা নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব অনুসারেও পরমাণু সমঝোতা মেনে চলতে সব পক্ষ বাধ্য।

যাইহোক, ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা নিয়ে নতুন করে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে তার উদ্দেশ্য কেবল নির্বাচনকে সামনে রেখে আমেরিকার জনগণের সমর্থন পাওয়া। সার্বিকভাবে বলা যায়, আমেরিকায় যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন ইরানের সঙ্গে শত্রুতা করা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এসব কারণে ইরানের সরকার ও জনগণ কখনই আমেরিকার ওপর আস্থা রাখতে পারে না।#          

পার্সটুডে/মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন/৪