ইয়েমেনে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের ইরান বিরোধী বক্তব্য ও বাস্তবতা
ইয়েমেনে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত অ্যাডমন্ড ব্রাউন বলেছেন, ইয়েমেনে ইরানের অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে প্রকাশিত রিপোর্টের ব্যাপারে আমরা উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে তিনি ইয়েমেন সংকটের ব্যাপারে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের জন্য ইরানকে পরামর্শ দিয়েছেন। ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত দাবি করেছেন, তারা ইয়েমেনের ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন জানায়। তিনি সহিংসতা পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য ইয়েমেনের সব গ্রুপের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ভিত্তিহীন কথাবার্তার পরিবর্তে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের উচিৎ ইয়েমেনে নারী শিশুসহ বেসামরিক মানুষ হত্যার কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহ করা থেকে বিরত থাকা। মাত্র দুই দিন আগেও ইয়েমেনে গণহত্যার কাজে ব্রিটেনের তৈরি স্মার্ট বোমা ব্যবহারের খবর গণমাধ্যমগুলোর শিরোনাম হয়ে এসেছে।
ব্রিটিশ দৈনিক অবজারভার এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ব্রিটেন ও স্কটল্যান্ডের অস্ত্র নির্মাণ কোম্পানিগুলোর তৈরি স্মার্ট বোমা সব বড় বড় যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। দৈনিক গার্ডিয়ান লিখেছে, ব্রিটেন সরকার একদিকে ইয়েমেনিদের জন্য খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী পাঠাচ্ছে অন্যদিকে ইয়েমেনে হামলা চালানোর জন্য সৌদি আরবকে অস্ত্র দিচ্ছে। গার্ডিয়ান এ কথাও ফাঁস করে দিয়েছে যে, গত বছরের মার্চে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার সৌদি আরবকে অস্ত্র দেয়ার বিষয়ে ৩৭টি অনুমতি পত্র ছাড় দিয়েছে। সরকার গতবছর সৌদি আরবের কাছে ৩৫০ কোটি পাউন্ড মূল্যের অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। গার্ডিয়ান আরো লিখেছে, ব্রিটেন সরকার ২০১৪ সালের শেষের দিকে অস্ত্র ব্যবসা সংক্রান্ত জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবে সই করে। ওই প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারী কোনো দেশ আন্তর্জাতিক আইন, স্বাধীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্ভাবনা আছে এমন কোনো দেশ বা সংগঠনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে পারবে না।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুনকে লেখা চিঠিতে ইয়েমেনের উত্তরে নিক্ষিপ্ত বিএল-৭৫৫ গুচ্ছ বোমা ব্যবহারের বিষয়ে তদন্তের অনুরোধ করেছিলেন। বিএল-৭৫৫ গুচ্ছ বোমা ব্রিটেনের বিমান বাহিনীর জন্য তৈরি হলেও বর্তমানে সৌদি জঙ্গিবিমান এসব বোমা ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। এ ধরণের বোমা ব্যবহারের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
১৯৮০ থেকে ৯০ এর দশকে ব্রিটেন সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে প্রচুর গুচ্ছ বোমা বিক্রি করেছে। ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে ব্রিটেনও সৌদি আরবের অন্যতম মিত্র।
সৌদি আরব ইয়েমেনের বেসামরিক মানুষের ওপর নির্দয়ভাবে বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সৌদি হামলায় এ পর্যন্ত ইয়েমেনের ৯৫০০ মানুষ নিহত হয়েছে। এর মধ্যে প্রচুর সংখ্যক শিশু রয়েছে। তাই সৌদি আগ্রাসনের গুরুত্বপূর্ণ শরীক হিসেবে ব্রিটেনকেও ইয়েমেনে সাধারণ মানুষ হত্যার ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। এ ছাড়া, সৌদি আরবকে অস্ত্র সরবরাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ব্রিটেন কেন আগ্রাসী শক্তিকে অস্ত্র দেয়া অব্যাহত রেখেছে তারও ব্যাখ্যা দিতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইয়েমেন ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য উদ্দেশ্যমূলক। এর মাধ্যমে তিনি এ অঞ্চলে ইরান আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন। #
পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/২৩