মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদক নির্ধারণ: তেহরানের প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i19192-মানবাধিকার_বিষয়ক_জাতিসংঘের_নতুন_প্রতিবেদক_নির্ধারণ_তেহরানের_প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ ইরানে মানবাধিকার বিষয়ক নতুন প্রতিবেদক নির্ধারণ করেছে। এ পদক্ষেপকেও ইরানভীতি ছড়ানোর চেষ্টা বলে অনেকে মনে করছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৬ ১৩:৫৪ Asia/Dhaka

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ ইরানে মানবাধিকার বিষয়ক নতুন প্রতিবেদক নির্ধারণ করেছে। এ পদক্ষেপকেও ইরানভীতি ছড়ানোর চেষ্টা বলে অনেকে মনে করছেন।

ইরানে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক আহমাদ শাহিদের দায়িত্ব আগামী নভেম্বরে আসমা জাহাঙ্গীরের হাতে হস্তান্তর করা হবে। মালদ্বীপের কূটনীতিক আহমাদ শাহিদ ২০১১ সালের ১১ জুন এই দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছিলেন। ইরানের মানবাধিকার বিষয়ক উচ্চ পরিষদের সচিব মোহাম্মদ জাওয়াদ লারিজানি মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদক নিয়োগের বিষয়টিকে কয়েকটি দেশের দ্বিমুখী নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সবসময়ই মানবাধিকার বিষয়ক নীতিমালা মেনে চলছে এবং এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারপরও ইরানে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের নতুন বিশেষ প্রতিবেদক নিয়োগের উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতির ব্যাপারে নেতিবাচক অবস্থান তুলে ধরা এবং ইরানের বদনাম করা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের যে নীতিমালা তা গুটি কয়েক বৃহৎ শক্তির রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এর ফলে এ পরিষদের গুরুত্ব বা গ্রহণযোগ্যতা যেমন কমে গেছে তেমনি কোনো কোনো মহলের রাজনৈতিক বিদ্বেষ চরিতার্থ করার অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের বিষয়ে কেন কথা বলছে না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বরং এ সংস্থাগুলো ওই দেশগুলোকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। 

বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো মুসলিমসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের সাজা দেয়া কিংবা খুনি, সন্ত্রাসী ও মাদক চোরাকারবারিকে ফাঁসি বা শাস্তি দেয়ার বিষয়টিকেও মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। ইরানের প্রতিবেশী আফগানিস্তানে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী মাদক চাষ হয়ে থাকে এবং এটা সন্ত্রাসবাদের চেয়ে কোনো অংশে কম বিপজ্জনক নয়। তাই এসবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া দরকার।

ইসলামী ইরান মানবিক এবং নৈতিকভাবে সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কারণ আফগানিস্তান থেকে উৎপাদিত মাদকের একটি বড় অংশ আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে পাচার হচ্ছে। এই পাচার রোধে ইরান এ পর্যন্ত নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ আমেরিকা সন্ত্রাসবাদের অজুহাতে এবং মাদক চোরাচালান রোধের কথা বলে আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে এ পর্যন্ত বহু নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে আফগানিস্তান দখলের এত বছর পরও সেখানে মাদক উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েছে।

এ অবস্থায় ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে তার উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে ইরানের ভাব-মর্যাদা খাটো করা। মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো অবশ্যই গঠনমূলক কাজ। ইরানও এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট আন্তরিকতার প্রমাণ দিয়েছে। বর্তমানে গাজা, ইয়েমেন, ইরাক ও সিরিয়ায় নারী শিশুসহ নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। এসব হত্যাকাণ্ডে আমেরিকা ও ব্রিটেনের তৈরি অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। দখলদার ইসরাইল ও সৌদি আরবের মতো দেশ মানবাধিকারের দাবিদার আমেরিকা এবং ইউরোপের জন্য কলঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতসব কলঙ্কের বোঝা নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে কথা বলা পাশ্চাত্যের জন্য মানায় না।#            

পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/৪