পরমাণু সমঝোতা নিয়ে সংশয়: কী করবেন ট্রাম্প?
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের সম্পাদিত পরমাণু সমঝোতার বিরুদ্ধে অসংলগ্ন বক্তব্য দেয়ায় এখন ওই সমঝোতা আদৌ টিকবে কিনা তা নিয়ে নানা সন্দেহ ও আশঙ্কা জোরদার হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ পূর্ব ইউরোপের দেশ সফরকালে বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন করা আমেরিকার দায়িত্ব। তিনি বলেন, সমঝোতার বিষয়ে ইরান তার অংশ বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমেরিকার বর্তমান প্রশাসন পুরোপুরি তার অংশ বাস্তবায়ন করে নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, সমঝোতা বাস্তবায়ন করার বিষয়টি আমাদের কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমাদের হাতে অন্য কোনো ব্যবস্থা নেই।
পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরূপ মন্তব্যের জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানিও বলেছেন, এই সমঝোতা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও অনুমোদন দিয়েছে এবং একটি সরকারের পক্ষে তা বাতিল করা বা পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারকালে ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতাকে বিপর্যয় ও সবচেয়ে খারাপ চুক্তি বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনে জিততে পারলে প্রথম দিনেই পরমাণু চুক্তি ছিঁড়ে টুকরা টুকরা করে ফেলবেন। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতার পর ট্রাম্পের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ওয়ালিদ ফার্স বলেছেন, ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা বাতিল করতে চান না তবে এ বিষয়ে তিনি আরো আলোচনা ও পুনর্মূল্যায়ন করতে চান।
পরমাণু সমঝোতার বিরোধী সৌদি আরবের মতো দেশও ট্রাম্পের সঙ্গে সূর মিলিয়ে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য তাদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে। সৌদি আরবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান তুর্কি ফয়সাল বলেছেন, বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পাদিত পরমাণু সমঝোতা ছিঁড়ে না ফেলে ট্রাম্প সরকারের উচিৎ হবে তার ভাষায় মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া।
অবশ্য এ পর্যন্ত ট্রাম্প যেসব কথাবার্তা বলেছেন, তাতে পরস্পর বিরোধিতা লক্ষ্য করা গেছে। তার এ স্বভাব অবশ্য নতুন নয়। তিনি যদি তার উপদেষ্টাদের পরামর্শগুলো কিছুটা হলেও মেনে চলেন তাহলেও আন্তর্জাতিক সমাজের সঙ্গে বিরোধ এড়িয়ে চলতে পারবেন বলে মনে হয়।
পরমাণু সমঝোতার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বক্তব্যের ফলে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনির সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে কিছু বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে। তিনি সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা কেবল ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় কোনো সমঝোতা নয়। তিনি বলেন, এটি একটি বহুপক্ষীয় সমঝোতা এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প হয়তো কেবল নির্বাচনী প্রচারণার স্বার্থে পরমাণু সমঝোতা ছিঁড়ে ফেলার কথা বলে থাকতে পারেন। কিন্তু তারপরও যেহেতু তিনি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এ ধরণের হুমকি দিয়েছিলেন তাই এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ট্রাম্প তার হুমকি আদৌ বাস্তবায়ন করবেন কিনা তা বোঝা যাবে পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণী গ্রুপে তিনি কাদেরকে মনোনীত করবেন তার ওপর।
যাইহোক এসব আশঙ্কা থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ওই সতর্ক বাণীকে স্মরণ করিয়ে দেয় যেখানে তিনি বলেছিলেন, আমেরিকাকে বিশ্বাস করা যায় না এবং সুযোগ পেলেই তারা কেবল নিজেদের অন্যায় দাবি ইরানের জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে।#
পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/১২