ইরানে পালিত হচ্ছে ৩৮তম ইসলামি প্রজাতন্ত্র দিবস
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i35440-ইরানে_পালিত_হচ্ছে_৩৮তম_ইসলামি_প্রজাতন্ত্র_দিবস
ইরানে আজ নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে ৩৮তম ইসলামি প্রজাতন্ত্র দিবস। ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে মার্কিন সমর্থিত পাহলাভি রাজতন্ত্রের পতন হয়। সেইসঙ্গে ইরানের মাটি থেকে আড়াই হাজার বছরের রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা উৎখাত হয়ে যায়।
(last modified 2026-04-22T07:21:27+00:00 )
এপ্রিল ০১, ২০১৭ ০৭:২৬ Asia/Dhaka
  • ভোট দিচ্ছেন ইমাম খোমেনী
    ভোট দিচ্ছেন ইমাম খোমেনী

ইরানে আজ নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে ৩৮তম ইসলামি প্রজাতন্ত্র দিবস। ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে মার্কিন সমর্থিত পাহলাভি রাজতন্ত্রের পতন হয়। সেইসঙ্গে ইরানের মাটি থেকে আড়াই হাজার বছরের রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা উৎখাত হয়ে যায়।

ইমাম খোমেনী (রহ.) -এর নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের মাত্র দুই মাস পর দেশটিতে ৩০ মার্চ এক ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই গণভোটের মাধ্যমে ইরানের জনগণ ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। জনগণ ইসলামী প্রজাতন্ত্র চায় কি না জানতে চেয়ে এই গণভোটের আয়োজন করা হয়।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রশ্নে ঐতিহাসিক গণভোটের প্রাক্কালে ইসলামী ইরানের অবিসংবাদিত নেতা ও ইসলামী বিপ্লবের মহান রূপকার মরহুম ইমাম খোমেনী (রহ.) বলেছিলেন, ‘এই গণভোট আমাদের জাতির ভাগ্য নির্ধারণ করবে। এ গণভোট হয় আপনাদের স্বাধীনতা ও মুক্তি দেবে তথা ইসলামী গণতান্ত্রিক শাসন উপহার দেবে অথবা অতীতের মতই পরাধীনতা এবং রাজতান্ত্রিক স্বৈরশাসন বজায় থাকবে। আপনারা এ দুই পথের যে কোনো একটি পথ বেছে নিতে পারেন। এটা এখন আপনাদের স্বাধীন ইচ্ছার বিষয়।’

বিপ্লবের সময় ইরানি জনগণ শাহ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং বিভিন্ন দাবি-দাওয়া জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিত। এরকম একটি স্লোগান ছিল ‘মুক্তি, স্বাধীনতা এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র।’ বিপ্লব বিজয়ের পর অনুষ্ঠিত ওই গণভোটে জনগণের এ দাবির পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটে।

জনগণ এতে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পক্ষে ৯৮.২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। এরপর ১৯৭৯ সালের ১ এপ্রিলকে (ফার্সি ১২ ফারভারদিন) ইরান ইসলামী প্রজাতন্ত্র  দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

গণভোটের রায়ের পর জনতার মিছিল (ফার্সি ১৩৫৮ সালের ১২ ফারভারদিন)

ঐতিহাসিক ওই গণরায়ের মধ্য দিয়ে ইরানে রাজতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়া হয় এবং ইরানের জন্য রাজতন্ত্রকে চিরদিনের জন্য প্রত্যাখ্যান করে। এ ছাড়াও এর ফলে ইরানে নিষিদ্ধ হয় মানবরচিত মতাদর্শভিত্তিক সব ধরনের শাসন-ব্যবস্থা। সেই থেকে প্রতি বছরের ১ এপ্রিল ইরানে পালিত হচ্ছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র দিবস।

প্রথম ইসলামী প্রজাতন্ত্র দিবসে ইমাম খোমেনী (রহ.) এক বাণীতে বলেছিলেন, ‘পৃথিবীতে যাদের হীনবল করা হয়েছে মহান আল্লাহ তাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন বলে সূরা আল কাসাসের ৫ নম্বর আয়াতসহ কুরআনের নানা আয়াতে ওয়াদা করেছেন। মহান ইরানি জাতির প্রতি আমার আন্তরিক অভিনন্দন যারা রাজতন্ত্রের যুগে শাসকগোষ্ঠী ও রাজাদের জুলুমের কারণে অপমানিত হয়েছেন এবং দূর্ভোগ সহ্য করেছেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সম্মানিত করেছেন, তাঁর শক্তিশালী হাত দিয়ে জালিম শাসককে ধ্বংস করে দিয়েছেন। আল্লাহর শক্তিই বঞ্চিত ও শোষিত শ্রেণী তথা মুস্তাজআফদের শক্তি। তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্র কায়েম করে দিয়ে ইরানি জাতিকে তাদের ন্যায়সঙ্গত উত্তরাধিকার দান করেছেন।’

ইমাম খোমেনী আরও বলেন, ‘ইরানের জনগণের বিজয় সাফল্য এবং জনগণের নেতৃত্বের এই শুভদিনে আমি ইরানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করেছি। আমি বিশ্বের সামনে ঘোষণা করছি যে, এ ধরনের গণভোট তথা ইরানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র কায়েমের প্রশ্নে গণভোট ইরানের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এটা এমন একটি গণভোট যেখানে গোটা দেশের জনগণ উৎসাহ ও আনন্দের সাথে এবং ভালোবাসা ও আগ্রহের সাথে ব্যালট বাক্সের পাশে দলে দলে গিয়ে উপস্থিত হয়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পক্ষে ভোট দিয়েছেন এবং খোদাদ্রোহী শাসনকে চিরদিনের জন্য ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করেছেন।’#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১