ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতিতে হতাশ হবে শত্রুরা
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে সবসময়ই ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ইসলামী সরকার প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত যতগুলো নির্বাচন হয়েছে তাতে জনগণের উপস্থিতি ছিল বিস্ময়কর।
আগামী ১৯ মে ইরানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১২তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এ নির্বাচনেও ইসলামী বিপ্লবী সরকারের প্রতি জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনের বিষয়টি ফুটে উঠবে। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেন দেহকান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং এ অঞ্চলে যুদ্ধ, রক্তপাত ও সংকট সৃষ্টিতে আমেরিকা, ইসরাইল ও সৌদি আরবের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, জনগণের ঐক্য ও সংহতি এবং আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি শত্রুদের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরো বলেছেন, আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনগণের সক্রিয় উপস্থিতির ফলে একদিকে যেমন দীর্ঘকাল পর্যন্ত ইসলামী বিপ্লব টিকে থাকার নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে অন্যদিকে ইরান সম্মান ও গৌরবের সাথে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র ও সংস্কৃতির মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ইরানের ইসলামী সরকারের দৃঢ়তা ও শক্তিমত্বারই প্রমাণ। ইরানের জনগণ সবসময়ই নির্বাচনে অংশ নিয়ে শত্রুদের হুমকির বলিষ্ঠ জবাব দিয়ে এসেছে। এবারও তারা নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজেদের মূল্যবোধ ও শক্তিশালী অবস্থানের বিষয়টি বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এরই মধ্যে দেশকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ করে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে নিজেদের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, কৌশল ও কর্মসূচি জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।
ইরানে ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের পর গত ৩৮ বছরের ইতিহাসে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে তা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি ইরানের ওপর চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের সময় সাদ্দামের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যেও কোনো বিরতি ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এ কারণে ইসলামী ইরান ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এবং শত্রুদের হুমকি ও ষড়যন্ত্র বানচাল হয়ে গেছে। যদিও শত্রুর হুমকি থেমে নেই বরং আগের চেয়ে আরো বেড়েছে ও জটিল হয়েছে। কিছু করতে না পেরে শত্রুরা এখন ভেতর থেকে ইরানের ইসলামী সরকারের ক্ষতি বা দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
এ লক্ষ্যে শত্রুরা অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে নির্বাচনের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কারণ তারা ভালো করেই জানে নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি সেদেশে ঐক্য ও সংহতিকে আরো জোরদার করবে। আর ইরানের সরকার ও জনগণও জানে নির্বাচনে মানুষের উপস্থিতির মাধ্যমে শত্রুদের যে কোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব।
এ ব্যাপারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি শিক্ষক সপ্তাহ উপলক্ষে এক সমাবেশে বলেছেন, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিভিন্ন রুচি ও দৃষ্টিভঙ্গির মানুষের উপস্থিতির ফলে ইরানের শক্তিমত্তা বহুগুণে বাড়বে এবং শত্রুরা ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পাবে না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরো বলেন, নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি শত্রুদের মধ্যে আতঙ্ক ও হতাশা সৃষ্টি করবে। #
পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/১৭