পরমাণু সমঝোতা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ট্রাম্প: কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা বাতিল কিংবা এ বিষয়ে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ আইনে পরিবর্তন আনার জন্য মার্কিন আইন প্রণেতাদের মধ্যে জোর শলাপরামর্শ চলছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে এখনো চরম দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। কারণ তিনি এই সমঝোতায় অটল থাকবেন নাকি বেরিয়ে যাবেন সে বিষয়ে তাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয় এ সমঝোতায় পরিবর্তন আনবেন না হয় এ থেকে বেরিয়ে যাবেন। তবে চুক্তিতে পরিবর্তন আনার যে প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম সেটাই বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।"
অভ্যন্তরীণ আইন অনুযায়ী, ইরান পরমাণু সমঝোতা মেনে চলছে কিনা সে বিষয়ে প্রতি তিন মাস পরপর রিপোর্ট তুলে ধরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব। এর আগে গত অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রতিবেদনে ইরান পরমাণু সমঝোতা মেনে চলছে না বলে দাবি করে চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য কংগ্রেসকে দুই মাসের সময় দিয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস এখনো কোনো জবাব দেয় নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে পরমাণু সমঝোতা ট্রাম্পের খুব একটা অনুকূলে নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি ভেবেছিলেন নিরাপত্তা পরিষদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে আনা নিন্দা প্রস্তাবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করা যাবে এবং এটাকে তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের বিরাট বিজয় হিসাবে বিশ্ববাসীকে দেখানো যাবে। কিন্তু শুধু যে চীন ও রাশিয়া ইরানের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে তাই নয় এমনকি ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোও ওয়াশিংটনের নোংরা রাজনীতি থেকে নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল। নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্য দেশ আমেরিকার ওই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে।
ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সাইয়্যেদ আলী বিগদেলি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাম্প্রতিক গোলযোগে ইরানে কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করা। এরপর সেটাকে অজুহাত করে তিনি পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই ষড়যন্ত্র ভেস্তে যাওয়ায় এটাকে আমেরিকার জন্য অনেক বড় আঘাত হিসাবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরান ইস্যুতে আমেরিকা এমনকি ইউরোপীয় মিত্রদেরও সমর্থন পায়নি যা খুবই দুঃখজনক।
যাইহোক, আগামী ১৩ জানুয়ারির মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। তবে এটা তার জন্য এতো সহজ কাজ হবে না। কারণ তিনি যদি ইরানের বিরুদ্ধে একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত নেন তাহলে একদিকে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটবে অন্যদিকে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গেও দূরত্ব সৃষ্টি হবে।
রুশ সংসদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সচিব ভ্লাদিমির জাবারোভে এ ব্যাপারে বলেছেন, আমেরিকার পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর উচিত ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা বাতিলের পরিণতির বিষয়ে হোয়াইট হাউজকে সতর্ক করে দেয়া। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৮