ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাগদাদ সফর: জোরদার হবে সামরিক সহযোগিতা
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধানসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন।
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইরাকের সেনাবাহিনীর প্রধান ওসমান আল ঘানমির সঙ্গে সাক্ষাতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাদের বিজয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, "ইরাকি জনগণের ঐক্য, শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের সঠিক দিক নির্দেশনা, কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টা এবং সেনা ও স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সাহসিকতা ও বীরত্বের কারণে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এ সাফল্য এসেছে।" ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির হাতামি আরো বলেছেন, "তেহরান চায় ইরাকিরা ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখুক এবং আমরা মনে করি ইরাকের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।"
এ সাক্ষাতে ইরাকের সেনাবাহিনীর প্রধান ওসমান আল ঘানমি বলেছেন, ইরাক থেকে সন্ত্রাসীদের পুরোপুরি উৎখাতের জন্য তেহরান-বাগদাদ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরাকের বিজয়ে ইরানের আন্তরিক সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ইরান ও ইরাক ভ্রাতৃপ্রতিম দুই প্রতিবেশী দেশ। দায়েশ সন্ত্রাসীদের পরাজিত করার ক্ষেত্রে এই দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রকৃতপক্ষে, অভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের কারণে ইরান ও ইরাকের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক বহুদিনের পুরানো। দু'দেশের মধ্যে দীর্ঘ অভিন্ন সীমান্ত থাকায় দায়েশ সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় ইরানই প্রথম দেশ যে কিনা ইরাকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। ইরাকের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ইরানের নিরাপত্তার জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ইরাকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরানও তার অভিজ্ঞতা নিয়ে এগিয়ে আসে এবং ইরাকের জনগণকে সংগঠিত করে।
ইরাকিদের মধ্যে ঐক্য, দেশটির ধর্মীয় নেতাদের নির্দেশে হাশত আশ্ শাআবি স্বেচ্ছাসেবী গঠন এবং ইরানে সামরিক উপদেষ্টাদের সক্রিয় ভূমিকা দায়েশ সন্ত্রাসীদের পরাজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। দায়েশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরাকের সঙ্গে ইরানের গঠনমূলক সহযোগিতা থেকে বোঝা যায়, দু'দেশের কৌশলগত অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। ইরাকের নিরাপত্তা ইরানেরই নিরাপত্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং ইরাকে কোনো বিপর্যয় নেমে এলে ইরানেও তার প্রভাব পড়বে। ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি প্রতিবেশী দেশগুলোতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত। যেমনিভাবে ইরাক ইরানের সহযোগিতায় দায়েশ সন্ত্রাসীদের পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছে।
এ ছাড়া ইরান ইরাকের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং দায়েশ পরবর্তী ইরাকের পুনর্গঠনেও ইরানের প্রয়োজন রয়েছে। এ ব্যাপারে ইরাকের প্রেসিডেন্ট ফুয়াদ মাসুম সম্প্রতি দায়েশ নির্মূলে ইরানের অসামান্য অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, "দায়েশ পরবর্তী ইরাকের উন্নয়নে ইরানের সহযোগিতা জরুরি।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরাক ও ইরানের সামরিক সহযোগিতা কেবল দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয় বরং এটি আঞ্চলিক প্রতিরোধ শক্তির অংশ। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৯