সিরিয়ায় ইরানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রতি রাশিয়ার সমর্থন
রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্টের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রতিনিধি মিখাইল বোগদানোভ সিরিয়ায় ইরানের ভূমিকাকে গঠনমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান সহযোগিতা করছে।
পাশ্চাত্য ও কয়েকটি আরব দেশের ইন্ধনে ২০১১ সাল থেকে সিরিয়ায় গোলযোগ শুরু হয়। এই দেশগুলোর সমর্থনপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো মধ্যপ্রাচ্যে দখলদার ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষার জন্য সিরিয়ার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করার জন্য সিরিয়া সরকার ইরানের কাছে সাহায্য চায়। দামেস্কের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তেহরান সিরিয়ায় সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহযোগিতা করে এবং দেশটির বিভিন্ন স্থান থেকে সন্ত্রাসীদের হটিয়ে দিতে সক্ষম হয়।
মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞ জিম ডাব্লু দিয়ান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মোকাবেলায় ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ অভিহিত করে বলেছেন, "সিরিয়া সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কীভাবে পাশ্চাত্যের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে তা সবাই দেখেছে।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পাশ্চাত্য বিশেষ করে আমেরিকা সিরিয়ায় সংকটের শুরু থেকেই আসাদ সরকারের পতনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে এসেছে। পাশ্চাত্য ও তাদের অনুগত আরব সরকারগুলো একজোট হয়ে সন্ত্রাসীদেরকে সব রকম সহযোগিতা করেছে। একইসঙ্গে তারা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা আগ্রাসন চালানোর পাশাপাশি সিরিয়া থেকে ইরানি সামরিক উপদেষ্টাদের প্রত্যাহারের দাবি জানায়। কিন্তু সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ আমেরিকার ওই দাবির তীব্র বিরোধিতা করে তা প্রত্যাখ্যান করেন। সিরিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল মিকদাদ বলেছেন, সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করার জন্য আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েই লেবাননের হিজবুল্লাহ যোদ্ধা ও ইরানের সামরিক উপদেষ্টারা সিরিয়ায় অবস্থান করছেন।

এদিকে, সিরিয়া সরকারের সমর্থনে এবং সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় ২০১৫ সাল থেকে রাশিয়াও ব্যাপক সামরিক সহযোগিতা করে আসছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসীদের অবস্থানের ওপর রাশিয়ার বিমান হামলায় সন্ত্রাসীদের ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় সন্ত্রাসীদের রক্ষার জন্য ইসরাইল ও পাশ্চাত্যের দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক রাজনৈতিক ও মনস্তাত্বিক প্রচারণা যুদ্ধ চালানোর পাশাপাশি তাদের দাবি মেনে নিতে রাশিয়াকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছে।
এ অবস্থায় সিরিয়ায় ইরানের গঠনমূলক ভূমিকার ব্যাপারে রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ এবং আমেরিকা সিরিয়া থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের ও ইরানের বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাহারের যে দাবি জানাচ্ছে তারও জবাব বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সিরিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল মিকদাদ বলেছেন, তাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ইরান ও রাশিয়া সেদেশে উপস্থিত রয়েছে। তার এ বক্তব্যের প্রতি সমর্থন দিয়েই রুশ উপপরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সিরিয়ায় ইরানের উপস্থিতির প্রয়োজন রয়েছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১