ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ইউরোপের নতুন পদক্ষেপ
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i60126-ইরানের_বিরুদ্ধে_মার্কিন_নিষেধাজ্ঞা_মোকাবেলায়_ইউরোপের_নতুন_পদক্ষেপ
ইউরোপের রাষ্ট্রগুলো নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক একটি আইন আবারো চালু করতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে ইউরোপের কোম্পানিগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
জুলাই ১৭, ২০১৮ ১৪:৩৮ Asia/Dhaka

ইউরোপের রাষ্ট্রগুলো নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক একটি আইন আবারো চালু করতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে ইউরোপের কোম্পানিগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার আগেই আগামী আগস্ট থেকে ইউরোপ নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ওই আইন বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি থেকে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোকে রক্ষা করা এর উদ্দেশ্য। অর্থাৎ এ আইনের বলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো নিজ নিজ সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে।

আমেরিকা ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এ চুক্তি টিকিয়ে রাখার জন্য অবশিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিশ্রুতি পালনের মাধ্যমে পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার কথা বলছে। আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ব্রিটেন, জার্মানি ও ফ্রান্স ইরানে পুঁজি বিনিয়োগকারী ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য  পদক্ষেপ নেয়ার কাজ শুরু করেছে।

এদিকে, ইরান সরকারও তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পরমাণু সমঝোতার শরীক ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এ ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি বলেছেন, পরমাণু সমঝোতায় ইরানের স্বার্থ নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে ইউরোপ।

ইউরোপ পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালালেও মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানে পুঁজি বিনিয়োগকারী বিদেশি কোম্পানিগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু একদিকে ইরান তার অবস্থানে অটল থাকায় এবং অন্যদিকে আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে মতবিরোধ তীব্রতর হওয়ায় ইউরোপীয় কর্মকর্তারা পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখা এবং ইরানে তাদের ব্যবসায়ীক স্বার্থ ধরে রাখার জন্য আগের চেয়ে আরো বেশী শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক হারম্যান তারতাস্ক এ ব্যাপারে বলেছেন, "মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকি সত্বেও ইউরোপ ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।" তিনি বলেন, "ইউরোপ ইরানকে সঙ্গে রেখে ট্রাম্পকেও কাছে টানার চেষ্টা করছে।"

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি এড়ানোর জন্য জন্য এর আগে ইউরোপীয় দেশগুলো ডলার বাদ দিয়ে অন্য মুদ্রায় ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করতে সম্মত হয়েছিল। এবার তারা নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক একটি পুরানো আইন আবারো চালু করতে সম্মত হয়েছে যাতে এর ফলে ইউরোপের কোম্পানিগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারে।

মার্কিন অর্থবিভাগের প্রধান স্টিভেন মানুচিন

ইউরোপ যখন পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালাচ্ছে তখন ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে দেশটির তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে আন্তর্জাতিক সমাজের তীব্র প্রতিবাদের মুখে মার্কিন কর্মকর্তারাও এখন তাদের অবস্থান থেকে কিছুটা পিছু হটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন অর্থবিভাগের প্রধান স্টিভেন মানুচিন বলেছেন, "তারা ইরানের তেল বিক্রি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করছেন তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ক্ষেত্রে কঠোরতার মাত্রা কমিয়ে আনা হতে পারে।" 

যাইহোক, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে কেউই মার্কিন একতরফা নিষেধাজ্ঞা নীতিকে সমর্থন করে না এমনকি ওয়াশিংটনের মিত্ররাও ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে একমত নয়।#

 পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৭