কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন ট্রাম্প
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i60152-কঠোর_নিষেধাজ্ঞা_দিয়ে_ইরানে_নৈরাজ্য_ও_বিশৃঙ্খলা_সৃষ্টির_চেষ্টা_করছেন_ট্রাম্প
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের পর থেকেই আমেরিকা নানাভাবে ইরানের সঙ্গে শত্রুতামূলক আচরণ করে আসছে। সব ক্ষেত্রে ইরানকে দুর্বল করার জন্য আমেরিকা গত ৪০ বছর ধরে দেশটির ক্ষতি করার জন্য সবরকম চেষ্টা চালিয়ে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব লাভের পর তিনি ইরানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান গ্রহণ করেন এবং ইরানের বর্তমান সরকার ব্যবস্থাকে উৎখাতের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানান।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
জুলাই ১৮, ২০১৮ ১৪:২৩ Asia/Dhaka

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের পর থেকেই আমেরিকা নানাভাবে ইরানের সঙ্গে শত্রুতামূলক আচরণ করে আসছে। সব ক্ষেত্রে ইরানকে দুর্বল করার জন্য আমেরিকা গত ৪০ বছর ধরে দেশটির ক্ষতি করার জন্য সবরকম চেষ্টা চালিয়ে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব লাভের পর তিনি ইরানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান গ্রহণ করেন এবং ইরানের বর্তমান সরকার ব্যবস্থাকে উৎখাতের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চেয়েছিলেন, পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে এমন কঠিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন যা হবে ইতিহাসে নজিরবিহীন। ট্রাম্প তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বহুবার বলেছেন, ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেয়া, গণঅসন্তোষ সৃষ্টি করা এবং সরকারের বিরুদ্ধে গণবিদ্রোহের পরিবেশ সৃষ্টি তার প্রধান উদ্দেশ্য। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্যই তিনি পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেছেন। বর্তমানে ইরানে বিদ্রোহের আলামত ফুটে উঠেছে বলেও তিনি দাবি করেন। সম্প্রতি তিনি ফক্স নিউজ টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে দাবি করেছেন, মুদ্রাস্ফীতির কারণে ইরানের প্রায় সব শহরে বিদ্রোহ ও বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং এতো বড় বিক্ষোভ আর কখনো দেখা যায়নি।

প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একদিকে ইরানে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন অন্যদিকে ইরানের জনগণের প্রতি সহমর্মিতা দেখাচ্ছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, 'ইরানের সরকার জনগণকে এটা বুঝতে দিচ্ছেন যে আমেরিকা ১০০ ভাগ ইরানের জনগণের পাশে রয়েছে।' ট্রাম্প যেন সব কিছু ভুলে যাওয়ার ভান করেন। মাত্র কয়েক মাস আগেও তিনি ইরানের জনগণকে সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু এখন তিনি ইরানের জনগণের বন্ধু সাজার চেষ্টা করছেন। অথচ ব্যাংক ও তেল নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি। তিনি ভালো করেই জানেন এসব নিষেধাজ্ঞার ফলে কেবল ইরানের জনগণ দুর্ভোগের সম্মুখীন হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে এমন চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন যাতে ইরানে নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা ও অসন্তোষ তৈরি হয়। আমেরিকার এ নীতি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ যা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ।

যাইহোক, আমেরিকা ইরানকে মোকাবেলায় ব্যর্থতা ঢাকার জন্য ফের নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। কিন্তু এবার ইউরোপ ওয়াশিংটনের প্রতি সমর্থন জানায়নি যার অর্থ হচ্ছে ইরান বিরোধী পদক্ষেপে আমেরিকা একা হয়ে পড়েছে।#      

 পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৮