তেহরানের বিরুদ্ধে তেলআবিব ও ওয়াশিংটনের নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু
ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর গত ৪০ বছর ধরে আমেরিকা ও ইসরাইল সবসময়ই তেহরানের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছে। তবে এ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় শত্রু দখলদার ইসরাইল নিষেধাজ্ঞাসহ নানা উপায়ে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি জন্য পাশ্চাত্য বিশেষ করে আমেরিকাকে বহুদিন ধরে উস্কানি দিয়ে আসছে। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতা হওয়ার পর ইসরাইলের এ তৎপরতা বহুগুণে বেড়েছে। ইসরাইলের কর্মকর্তারা আশা করেছিলেন পরমাণু আলোচনা কোনো ফল বয়ে আনবে না এবং ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করা হবে। কিন্তু ইসরাইলের সে স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে শেষ পর্যন্ত পরমাণু সমঝোতা হওয়ায় এবং জাতিসংঘেও এ চুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব গৃহীত হওয়ায় ইসরাইল প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু পরমাণু সমঝোতাকে বানচাল করে দেয়ার জন্য সর্বাত্মক ষড়যন্ত্র চালাতে থাকে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গত বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতা লাভের পর পরমাণু সমঝোতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। ইসরাইলের অনুরোধে সাড়া দিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি দুই দফায় ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বলবত করা হবে বলে জানিয়ে দেন। ট্রাম্পের এ পদক্ষেপে ইসরাইলি কর্মকর্তারা ব্যাপক সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের সমন্বিত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন গত রবিবার ইসরাইল সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখা করেন। ওই সাক্ষাতে জন বোল্টন বলেন, ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং তা বন্ধ করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
এই সাক্ষাতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে বায়তুল মোকাদ্দাসে স্থানান্তরে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, জন বোল্টনের সঙ্গে তার আলোচনার মূল বিষয় ছিল মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইরানকে হটানো এবং এ নিশ্চয়তা পাওয়া যে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন পরমাণু সমঝোতার পর ইরান গোপনে পরমাণু তৎপরতা চালাচ্ছে। কিন্তু তার এ বক্তব্য পরমাণু সমঝোতায় সইকারী কোনো দেশ বিশ্বাস করেনি। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএর প্রধান ইউকিয়া আমানো বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর এই সংস্থার পূর্ণ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং ইরান তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে।
যাইহোক, পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ওয়াশিংটন ও তেলআবিব ইরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলেও তারাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২০
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন