ইসলামাবাদ সফরে জারিফ: ইরান-পাকিস্তান সম্পর্কে নয়া অধ্যায়ের সূচনা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ দু'দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে পাকিস্তানে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খানের নতুন সরকারের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ইরানের কোনো পদস্থ কর্মকর্তার এটাই প্রথম ইসলামাবাদ সফর।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল(বৃহস্পতিবার) রাজধানী ইসলামাবাদ পৌঁছে সাংবাদিকদের বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। তিনি পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পীকার আসাদ কাইসারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বলেন, ইরান সবসময়ই পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলায় আগ্রহী। তাই ইমরান খানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের নতুন সরকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদারে পদক্ষেপ নেবে বলে আমরা আশা করি।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে অভিন্ন ধর্মীয় বন্ধন রয়েছে। এ ছাড়া, সীমান্ত নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দুই দেশ একে অপরকে সহযোগিতা করে আসছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বিস্তার সবসময়ই ইরানের পররাষ্ট্র নীতিতে অগ্রাধিকার পেয়ে আসছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের ব্যাপারে ইরানের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। ইমরান খানের নেতৃত্বে পাকিস্তানে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নয়া অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে সবাই আশা করছে।
সম্প্রতি পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির মধ্যে টেলিফোনালাপেও দু'দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক জোরদারের গুরুত্বের বিষয়টি উঠে আসে। ওই সাক্ষাতে ইমরান খান বলেছেন, "আমি এ নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে দু'দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরো বিস্তার ঘটাবো এবং ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাকে পাকিস্তান বিশেষ গুরুত্ব দেয়।"
সীমান্তে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে সহযোগিতা বজায় থাকা ছাড়াও দু'দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতাও উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া, জ্বালানি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও ইরান বহুদূর এগিয়ে। এ ক্ষেত্রেও ইরান পাকিস্তানকে সহযোগিতা করতে পারে। গত কয়েক বছর ধরে ইরান থেকে পাকিস্তানে গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলে আসলেও রাজনৈতিক কারণে পাকিস্তানের আগের সরকারগুলো এ প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে বিরত রয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গ্যাস পাইপ লাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এ ব্যাপারে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক মুখপাত্র মোহাম্মদ আব্দুল বাসেত বলেছেন, "প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইমরান খান দু'দেশের গ্যাস পাইপ লাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নতুন করে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন যাতে এর মাধ্যমে পাকিস্তানে জ্বালানির ঘাটতি কমিয়ে আনা যায়।"
যাইহোক, পাকিস্তানের নতুন সরকার যখন আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করছে তখন ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠছে। এ অবস্থা দু'দেশের জনগণের জন্যই কল্যাণকর। পাকিস্তানের স্বাধীন নীতি নিঃসন্দেহে তেহরান-ইসলামাবাদ সহযোগিতার পথকে সুগম করবে। কারণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বহু বিষয়ে ইরান ও পাকিস্তান অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩১