ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসীদের মৃত্যু বেড়েছে, তদন্ত চাই: জাতিসংঘ
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i160800-ট্রাম্পের_দ্বিতীয়_মেয়াদে_অভিবাসীদের_মৃত্যু_বেড়েছে_তদন্ত_চাই_জাতিসংঘ
পার্সটুডে—জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসী আটককেন্দ্রগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এ বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
(last modified 2026-06-27T12:49:34+00:00 )
জুন ২৭, ২০২৬ ১৮:৪৯ Asia/Dhaka
  • ভলকার টুর্ক
    ভলকার টুর্ক

পার্সটুডে—জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসী আটককেন্দ্রগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এ বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

ভলকার টুর্ক যুক্তরাষ্ট্রের আটককেন্দ্রগুলোতে অভিবাসীদের মৃত্যুর ঘটনায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি বছর এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার আরও বলেন, “যারা আইন লঙ্ঘনের জন্য দায়ী, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। নিহতদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার, ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের নিশ্চয়তা বিধার করতে হবে।”

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী আটককেন্দ্রগুলোতে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠন এবং অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, এর পেছনে রয়েছে পদ্ধতিগত অবহেলা, অমানবিক পরিবেশ এবং দুর্ব্যবহার।

ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত অভিবাসী বহিষ্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অভিবাসী আটককেন্দ্রগুলোর পরিধি বাড়িয়েছে। বেশ কিছু কেন্দ্র বেসরকারি ঠিকাদারদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসনের সময় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের মাধ্যমে দৈনিক গড় গ্রেপ্তারের হার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী সব প্রেসিডেন্টের তুলনায় সর্বোচ্চ।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অভিবাসী আটককেন্দ্রে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল:

২০২৪ সালে: ১১ জন

২০২৫ সালে: ৩৩ জন

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে: ১৯ জন

সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনাটি ৪ জুন লুইজিয়ানার একটি আটককেন্দ্রে ঘটেছে। চলতি মাসের শুরুতে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক প্রতিবেদনে জানায়, “ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের আটককেন্দ্রগুলোতে মৃত্যুর হার গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে তা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।”

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আটককেন্দ্রে মারা যাওয়া মোট ৫২ জনের বয়স ছিল ১৯ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে এবং তারা বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছিলেন।#

পার্স টুডে/এস এ/২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।