রাম মন্দিরে ‘দানসামগ্রী চুরি’ নিয়ে তোলপাড় ভারত: যোগী-মোদি দ্বন্দ্বে সরগরম রাজনীতি
https://parstoday.ir/bn/news/event-i160806-রাম_মন্দিরে_দানসামগ্রী_চুরি’_নিয়ে_তোলপাড়_ভারত_যোগী_মোদি_দ্বন্দ্বে_সরগরম_রাজনীতি
অযোধ্যার রাম মন্দিরের ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার দানসামগ্রী ও নগদ অর্থ লুটের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের রাজনীতি। এই কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অভ্যন্তরে যেমন মারাত্মক কোন্দল তৈরি হয়েছে, তেমনই লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে যোগী আদিত্যনাথ ও নরেন্দ্র মোদি সরকারকে একযোগে তুলোধোনা করছে বিরোধী দলগুলো।
(last modified 2026-06-27T14:06:21+00:00 )
জুন ২৭, ২০২৬ ১৯:৫৪ Asia/Dhaka
  • এআই দিয়ে তৈরি ছবি
    এআই দিয়ে তৈরি ছবি

অযোধ্যার রাম মন্দিরের ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার দানসামগ্রী ও নগদ অর্থ লুটের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের রাজনীতি। এই কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অভ্যন্তরে যেমন মারাত্মক কোন্দল তৈরি হয়েছে, তেমনই লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে যোগী আদিত্যনাথ ও নরেন্দ্র মোদি সরকারকে একযোগে তুলোধোনা করছে বিরোধী দলগুলো।

তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় একে বিজেপি সরকারের "বড় ব্যর্থতা ও লজ্জাজনক ঘটনা" বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তদন্তে এসআইটি, আটজন গ্রেপ্তার ও শীর্ষ কর্তাদের পদত্যাগ

মন্দিরের দানসামগ্রী চুরির অভিযোগের প্রেক্ষিতে উত্তর প্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করে। এসআইটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যেই আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ রুপি ও গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃত ব্যক্তিদের অধিকাংশই মন্দিরে জমা পড়া অর্থ ও সামগ্রী গোনার কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এই ঘটনার পরপরই রাম মন্দির অছি পরিষদ (শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট) থেকে পদত্যাগ করেছেন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং সদস্য অনিল মিশ্র। এসআইটির তদন্তে উঠে এসেছে যে, প্রতিদিন দানসামগ্রী গোনার সময় পরিকল্পিতভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ বা আড়াল করা হতো। চুরির অর্থ ও গয়না লুকিয়ে রাখা হতো মন্দিরের শৌচাগারে। এই চুরির টাকায় মন্দিরের কর্মচারীদের কেউ কেউ উত্তরাখণ্ডে রিসোর্ট ও শপিং মল বানিয়ে ব্যবসা ফেঁদেছেন বলেও প্রমাণ মিলেছে।

বিস্ফোরক সৌগত রায় ও বিরোধীদের তোপ

তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় এই কেলেঙ্কারি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, *“রাম মন্দিরের দানের টাকা নিয়ে যে কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে, তা বিজেপি সরকারের জন্য লজ্জাজনক। আটজন গ্রেপ্তার হলেও প্রশ্ন উঠছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সহ-সভাপতি চম্পত রাইয়ের ভূমিকা নিয়ে। তাঁকেও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।”* মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতদিন যোগী কেন এই বিষয়ে খেয়াল করেননি?

সৌগত রায় আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে এবং ‘লাভ জিহাদ’ বা ‘ইউসিসি’-এর মতো ইস্যু তুলে সমাজে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, কংগ্রেসের কে সি বেনুগোপাল ও রাজিব শুক্লা অভিযোগ করেছেন, রাঘববোয়ালদের আড়াল করতেই চম্পতের গাড়িচালক বা অনিল মিশ্রের আত্মীয়দের মতো চুনোপুঁটিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রশ্ন তুলেছেন, কোটি কোটি রুপি চুরি সত্ত্বেও চম্পত রাইকে গ্রেপ্তার করতে প্রধানমন্ত্রী মোদির এত অনীহা কেন? উদ্ধব শিবসেনার সঞ্জয় রাউত অভিযোগ করেন, মন্দিরে দেওয়া কোটি টাকার দানের কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি এবং এই চুরির টাকা অন্য দলের বিধায়ক ভাঙাতে ব্যবহার করা হয়েছে।

দায় চাপানোর খেলা: যোগী বনাম মোদি সরকার

এদিকে, এই দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও উত্তর প্রদেশ রাজ্য সরকারের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে। আগামী বছরের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে যোগী আদিত্যনাথের অনুগামীরা এই দুর্নীতির দায় দিল্লির ওপর চাপাতে চাইছেন।

যোগীর শিবিরের দাবি, ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’ গঠনসহ সব সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় স্তরে নেওয়া হয়েছিল। ট্রাস্টের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১২ জনই ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি মনোনীত। এমনকি মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন ঘনিষ্ঠ আমলা ও সাবেক মুখ্যসচিব নৃপেন্দ্র মিশ্র। ফলে এই দুর্নীতির দায়ভার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এড়াতে পারে না।

বিপরীতে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কড়া ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, অপরাধীরা ছাড়া পাবে না, তবে বিরোধীরা যেন রামভক্তদের ধৈর্যের পরীক্ষা না নেন।

কয়েক হাজার কোটি রুপির দুর্নীতির অনুমান

২০২১ সালেও মন্দির তৈরির জমি কেনাকে কেন্দ্র করে ২ কোটি রুপির জমি ২০ কোটিতে কেনার এক বিরাট আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। আর এবারের দুর্নীতি ভক্তদের দেওয়া সোনা, রুপা ও নগদ টাকা নিয়ে। অডিট সংস্থার মতে, ট্রাস্টের কোনো অপেশাদার কাজের কারণে দানের সঠিক কোনো রেকর্ড রাখা হয়নি। বিরোধীদের দাবি, আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি রুপি হতে পারে। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের তদারকিতে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি ও বামপন্থীরা।#

পার্সটুডে/এমএআর/২৭