যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অনিরাপত্তার অন্যতম কারণ
আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ইসরায়েলই সবচেয়ে বড় হুমকি: ইরান
-
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি
পার্সটুডে: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সহযোগিতার জন্য ইহুদিবাদী ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীই সবচেয়ে বড় হুমকি।
পার্সটুডে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিন বছর আগে অক্টোবরের ঘটনাবলির পর, অধিকৃত ফিলিস্তিনকে নিশ্চিহ্ন করার ঔপনিবেশিক পরিকল্পনার সূচনা, গাজায় গণহত্যা এবং লেবানন ও অঞ্চলের অন্যান্য দেশে দখলদার ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর হামলার পর আঞ্চলিক দেশগুলো আরও দৃঢ়ভাবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, তাদের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সহযোগিতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী।
তিনি আরও বলেন, ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ প্রতিষ্ঠার অবাস্তব পরিকল্পনা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর হামলা এবং পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সমঝোতা স্মারকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোসহ অঞ্চলের অনেক দেশের বিরুদ্ধে হুমকি—এসবই এই উপলব্ধিকে আরও জোরদার করেছে যে, আঞ্চলিক দেশগুলো আগের মতো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবির ওপর নির্ভর করতে পারে না।
যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অনিরাপত্তার অন্যতম কারণ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এই অঞ্চলের অনিরাপত্তার অন্যতম কারণ।
বাকায়ি আরও বলেন, ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাত্মক সমর্থন এবং এই শাসকগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক ও প্রচারগত সুরক্ষা না থাকলে, তারা এই অঞ্চলে দায়মুক্তির সঙ্গে তাদের অপরাধ চালিয়ে যেতে পারত না।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা অবিচ্ছেদ্য
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা অবশ্যই অবিচ্ছেদ্য তথা এ অঞ্চলের যে কোনো জোট বা চুক্তির সঙ্গে অসম্পর্কিত নয়। এমন যেকোনো পরিকল্পনা, যা অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং শত্রু ও হুমকিকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে, তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রাখে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী ও বেআইনি তৎপরতা বন্ধের ওপর
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের শর্তের কথা উল্লেখ করে ইরানের কূটনৈতিক দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়নি। এর কারণ হলো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন এবং হরমুজ প্রণালির অপব্যবহার।
তিনি আরও বলেন, জাহাজ চলাচলের পথ নির্ধারণ নিয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনা স্বাভাবিকভাবেই একটি দ্বিপক্ষীয় বিষয়। এটি দুই উপকূলীয় দেশের সরকারের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হল—হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচলের পথ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো।
বাকায়ি স্পষ্ট করে বলেন, প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া নির্ভর করছে এ প্রণালিতে আরোপিত পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর। আমরা এখনো যুদ্ধে রয়েছি। যতদিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অন্যান্য লঙ্ঘনও চলতে থাকবে, ততদিন প্রণালিকে নিরাপদ সাগর-পথে পরিণত করা হয়েছে—এ কথা বলার মতো প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি হবে না।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে তার বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা যাবে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/১০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।