হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ‘জটিল অভিযানে’ ধরা পড়ল মার্কিন সর্বাধুনিক ডুবোযান
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i162936-হরমুজ_প্রণালিতে_ইরানের_জটিল_অভিযানে’_ধরা_পড়ল_মার্কিন_সর্বাধুনিক_ডুবোযান
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী কৌশলগত হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত উন্নত চালকবিহীন ডুবোযান (ইউইউভি) জব্দ করেছে। আজ (মঙ্গলবার) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, দিনের প্রথম প্রহরে জটিল গোয়েন্দা ও সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এই ডুবোজাহাজটি জব্দ করা হয়।
(last modified 2026-09-09T08:47:35+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬ ২৩:১৭ Asia/Dhaka
  • ইরানের হাতে বন্দি যুক্তরাষ্ট্রের ৬ হাজার মিটার গভীরতায় চলার সক্ষম ‘ডাইভ-এলডি’
    ইরানের হাতে বন্দি যুক্তরাষ্ট্রের ৬ হাজার মিটার গভীরতায় চলার সক্ষম ‘ডাইভ-এলডি’

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী কৌশলগত হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত উন্নত চালকবিহীন ডুবোযান (ইউইউভি) জব্দ করেছে। আজ (মঙ্গলবার) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, দিনের প্রথম প্রহরে জটিল গোয়েন্দা ও সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এই ডুবোজাহাজটি জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত সিস্টেমটি হচ্ছে ‘ডাইভ-এলডি’ (Dive-LD) — যা মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃক উন্নত একটি বৃহৎ আকারের স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান। এটি ২০২৫ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর আনম্যানড আনডারসি ভেহিকল গ্রুপ ১-কে সরবরাহ করা হয়েছিল।

আইআরজিসি জানিয়েছে, জব্দ করা মার্কিন সামরিক সম্পদের ছবি ও বিস্তারিত ভিডিও আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, জব্দ করা যানটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার, ব্যাস প্রায় ১ দশমিক ২ মিটার এবং ওজন প্রায় ২ দশমিক ৭ টন।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, Dive-LD পানির নিচে সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত কার্যক্রম চালাতে পারে এবং প্রায় ৬,০০০ মিটার গভীরতায় পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে।

মডুলার ও স্বায়ত্তশাসিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরি Dive-LD-কে বিভিন্ন ধরনের মিশনের জন্য ব্যবহার করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও পুনরুদ্ধার (ISR), সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, সামুদ্রিক অবকাঠামো পরিদর্শন এবং নৌমাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার মতো অভিযান।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার মধ্যেই এই জব্দের ঘটনা ঘটল। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালি সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এর ফলে প্রণালি ও এর আশপাশের জলসীমায় সামুদ্রিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে তেহরান।

সাম্প্রতিক সামরিক সংঘর্ষের মধ্যে মার্কিন বাহিনীর ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা এবং মার্কিন নৌবাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও রয়েছে।

৬ সেপ্টেম্বর ইরান জানিয়েছিল, হরমুজের কাছে একটি নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা একটি মার্কিন চালকবিহীন নৌযানে তারা হামলা চালিয়েছে।

চালকবিহীন ডুবোযান (UUV) জব্দের ঘটনাটি উন্নত পশ্চিমা সামরিক প্রযুক্তি ইরানের হাতে চলে আসার দীর্ঘ ইতিহাসের সর্বশেষ উদাহরণ।

উল্লেখ্য, এটি ইরানের দীর্ঘ ইতিহাসে উন্নত পশ্চিমা সামরিক প্রযুক্তি জব্দের সর্বশেষ ঘটনা। গত এক দশকে ইরানি বাহিনী আরকিউ-১৭০ সেন্টিনেল স্টিলথ ড্রোন, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন পানির নিচের গ্লাইডার ও পৃষ্ঠতলীয় জাহাজ জব্দ করেছে। এই জব্দকৃত প্রযুক্তিগুলোর রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং ইরানের অভ্যন্তরীণ ড্রোন ও মানবহীন নৌ কর্মসূচি ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, এবং বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ‘ডাইভ-এলডি’-ও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হবে— যা ইরানের সামুদ্রিক প্রযুক্তি উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।#