আলোচনা নয়, ইরানের সরকার ব্যবস্থা উৎখাত করাই আমেরিকার লক্ষ্য: ইরানের প্রেসিডেন্ট
-
পেজেশকিয়ান (ডানে)
পার্সটুডে- ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, আলোচনার দাবি করার পাশাপাশি একই সময়ে হামলা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা প্রতারণার শামিল।
ইরানের প্রেসিডেন্ট সোমবার আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী আরারাত মিরজোয়ানের সঙ্গে সাক্ষাতে দুই দেশের অত্যন্ত ভালো ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে। ইরানে আর্মেনীয়রা সবসময় সুনাম ও সততার অধিকারী জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও বর্তমান সংবেদনশীল অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সমস্যা হলো—আমরা যখনই আলোচনার টেবিলে বসি, তখনই আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত তিনবার আলোচনার পর আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, তারা আসলে আলোচনায় আগ্রহী নয়; বরং তাদের লক্ষ্য ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সরকারব্যবস্থা উৎখাত করা।
তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান বহুবার তার সততার প্রমাণ দিয়েছে। বিশ্বে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি তদারকির আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে ইরান অন্যতম। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যা অভিযোগ তুলে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ইরান আলোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু সমস্যা হলো, প্রতিবার পরিদর্শকরা ইরানে আসার পর আমাদের পারমাণবিক স্থাপনা ও বিজ্ঞানীদের শনাক্ত করা হয়েছে; এরপর এসব স্থাপনায় বোমা হামলা এবং আমাদের বিজ্ঞানীদের হত্যা করা হয়েছে। কোন যুক্তিতে আমাদের বৈজ্ঞানিক ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনায় বোমা হামলা করা হবে? আন্তর্জাতিক আইন ও বিধি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তদারকিতে থাকা পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করার অধিকার তাদের নেই। ইরানে হামলা চালানোর পর আবার আলোচনার দাবি করাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, মিনাব এলাকায় তারা ১৬৮ জন নিরপরাধ শিশুকে কোন অপরাধে হত্যা করেছে—এর কোনো উত্তর দেয় না। তারা লজ্জিতও নয়, অথচ এখনও মানবাধিকারের দাবি করে। যারা নিজেকে সভ্য বলে দাবি করে, তারা বাস্তবে বর্বর হয়ে উঠেছে—এটাই আজ আমাদের সমস্যা।
অন্যদিকে, আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইরান ও আর্মেনিয়ার বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দুই দেশের সহযোগিতা ভালোভাবেই চলছে। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা ইরানের সঙ্গে নিজেদের সহযোগিতা ও যোগাযোগ দৃঢ়ভাবে অব্যাহত রাখছেন।#
পার্সটুডে/এসএ/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।