মেজর জেনারেল আবদুল্লাহি: ফারাজা ইরানকে বিভক্ত হওয়া থেকে রক্ষা করেছে
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i163662-মেজর_জেনারেল_আবদুল্লাহি_ফারাজা_ইরানকে_বিভক্ত_হওয়া_থেকে_রক্ষা_করেছে
পার্সটুডে: ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ ও কেন্দ্রীয় খাতামুল আম্বিয়া (সা.) সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল পাইলট আলী আবদুল্লাহি রোববার ফারাজার সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন, ইরানের পুলিশ কমান্ড (ফারাজা) ধারাবাহিক ও দৃঢ় উপস্থিতির মাধ্যমে জনগণের আস্থার ভিত্তি ধরে রেখেছে এবং যুদ্ধ ও অভ্যুত্থানের সময় ইরানকে বিভক্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছে।
(last modified 2026-10-05T07:01:06+00:00 )
অক্টোবর ০৪, ২০২৬ ২০:৩৮ Asia/Dhaka
  • মেজর জেনারেল আবদুল্লাহি: ফারাজা ইরানকে বিভক্ত হওয়া থেকে রক্ষা করেছে

পার্সটুডে: ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ ও কেন্দ্রীয় খাতামুল আম্বিয়া (সা.) সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল পাইলট আলী আবদুল্লাহি রোববার ফারাজার সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন, ইরানের পুলিশ কমান্ড (ফারাজা) ধারাবাহিক ও দৃঢ় উপস্থিতির মাধ্যমে জনগণের আস্থার ভিত্তি ধরে রেখেছে এবং যুদ্ধ ও অভ্যুত্থানের সময় ইরানকে বিভক্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছে।

তিনি বলেন, এমন এক সময়ে ‘ফারাজা সপ্তাহ’ পালিত হচ্ছে, যখন ইরানের জনগণ নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। ১২ ও ৪০ দিনের মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ এবং ১৪০৪ সালের দেই মাসের অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে, বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্র শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের সম্মুখসীমায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাস্তাঘাট, মানুষের মন ও সামাজিক স্থিতিস্থাপকতাও সংঘাতের প্রধান ক্ষেত্র।

আবদুল্লাহির ভাষ্য অনুযায়ী, ১২ দিনের যুদ্ধে শত্রুপক্ষ আত্মসমর্পণ ও ইরানকে বিভক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছিল। তবে অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ফারাজার সতর্কতা এবং জনগণ, বাসিজ ও অন্যান্য নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় সেই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, দেই মাসের ১৮ ও ১৯ তারিখে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভ্যুত্থানকারীরা ও সশস্ত্র ব্যক্তিরা গভর্নরেট ও পুলিশকেন্দ্রে হামলা চালায়। কিন্তু ফারাজা বিচক্ষণতা, আত্মত্যাগ ও দৃঢ়তার মাধ্যমে জনশৃঙ্খলা ও স্থানীয় স্থিতিশীলতা বজায় রেখে জাতীয় নিরাপত্তার সম্মুখসারিকে সুদৃঢ় করে।

আবদুল্লাহি তাঁর বার্তায় দাবি করেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতে ফারাজার কয়েকটি সাফল্যের মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ৬০ শতাংশের বেশি কমে যাওয়া, চিহ্নিত অপরাধীদের ৮৫ শতাংশের বেশি গ্রেপ্তার এবং ‘কগনিটিভ ওয়ারফেয়ার’-এ সক্রিয় হাজার হাজার নেটওয়ার্কের কার্যক্রম বন্ধ করা।

তিনি বলেন, ৪০ দিনের যুদ্ধ ও পরবর্তী সংঘাতগুলোতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ছাড়া সাফল্য অর্জন সম্ভব ছিল না। তাঁর মতে, ফারাজার ধারাবাহিক ও দৃঢ় উপস্থিতি জনগণের আস্থার ভিত্তি ধরে রাখতে ভূমিকা রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রতিপক্ষ সামরিক ক্ষেত্রে পরাজিত হয়ে ‘কগনিটিভ ওয়ার’-এর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ফারাজা শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নয়, বরং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক পুঁজি রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।

আবদুল্লাহির দাবি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২১০টিরও বেশি রাতের ঘটনাপ্রবাহে ফারাজার কার্যক্রম জনভিত্তিক নিরাপত্তার একটি মডেল তৈরি করেছে।

বার্তার শেষাংশে তিনি ১২ ও ৪০ দিনের যুদ্ধ, দেই মাসের মার্কিন-ইসরায়েলি অভ্যুত্থান এবং দেশের সীমান্ত রক্ষায় নিহত ফারাজার সদস্যদের স্মরণ করেন। একই সঙ্গে ফারাজার কমান্ডার ও সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, কঠোর, নরম ও কগনিটিভ—তিন ধরনের যুদ্ধের সংযোগস্থলে দায়িত্ব পালন করা পেশাদার ও আধুনিক পুলিশব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বর্তমান ‘ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ’ অতিক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পার্সটুডে/এমবিএ/৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।