যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ‘স্ন্যাপব্যাক’ সংক্রান্ত দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই: ইরান
-
বাকায়ি
পার্সটুডে- ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইরানবিরোধী প্রস্তাবটি আইএইএ'র গভর্নরস বোর্ডে পাস হওয়া প্রসঙ্গে বলেছেন, এটি একটি স্ববিরোধী, অবৈধ ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ।
পার্সটুডে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের পক্ষ থেকে ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া চালুর দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই ঘোষণা করে আসছি যে, স্ন্যাপব্যাক অবৈধ। এখন রাশিয়া, চীনসহ অন্যান্য দেশও সঠিকভাবে এই অবস্থান উপলব্ধি করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গভর্নরস বোর্ডের প্রস্তাবে ইরানকে সুরক্ষা-সংক্রান্ত (সেফগার্ডস) প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক হামলার কথা এতে উল্লেখ করা হয়নি, অথচ এই হামলাই আইএইএর প্রবেশাধিকারে বাধা সৃষ্টির প্রধান কারণ।”
গভর্নরস বোর্ডে ভোটাভুটি প্রসঙ্গে বাকায়ি বলেন, “প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সদস্য এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে অথবা এতে সম্মতি দেয়নি। আর জাপান ও সৌদি আরবের মতো কয়েকটি দেশের ভোট চাপ প্রয়োগ বা প্রলোভনের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই প্রক্রিয়ার ফলাফল হচ্ছে আইএইএকে আরও বেশি রাজনৈতিকীকরণ করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের ব্যবস্থাকে দুর্বল করা। কারণ পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের মূল দর্শন— নিরস্ত্রীকরণ এবং দেশগুলোর পারমাণবিক অধিকার নিশ্চিত করা—এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।”
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শেষ পর্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, “জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি পাঠানোর কোনো ভিত্তি নেই। কারণ ইরান কোনো ধরনের অঙ্গীকার লঙ্ঘন করেনি। আর যেটিকে লঙ্ঘন বলা হচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফল।”
পার্সটুডে/এসএ/১০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।