যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই অঞ্চলে অবস্থান অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়: হোসেইন মোহেব্বি
-
ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি
পার্সটুডে-ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে বৈশ্বিক ব্যবস্থা ও যুদ্ধের পরিণতি নির্ধারণে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, আর ইরান তার ভৌগোলিক, সামরিক ও অস্ত্র সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এই অঞ্চলে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে।
পার্সটুডে আরও জানিয়েছে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বুধবার ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ এখন একটি প্রতিষ্ঠিত ও প্রমাণযোগ্য বাস্তবতা। শত্রুপক্ষের সরঞ্জাম ও নৌযান শনাক্ত, পর্যবেক্ষণ এবং লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা দেশটির কৌশলগত শক্তির একটি অংশ তুলে ধরেছে।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি শুধু একটি সমুদ্রপথ নয়; এটি বৈশ্বিক ব্যবস্থা ও যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণকারী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণে পরিণত হয়েছে। ইরান তার সামরিক, অপারেশনাল ও অস্ত্র সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এই কৌশলগত অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে নিজেদের সক্ষমতা ব্যবহার করছে।
মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপসাগরীয় উপস্থিতি কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে মোহেব্বি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি যুদ্ধজাহাজ ছিল। কিন্তু বর্তমানে আর এমন অবস্থান দেখা যাচ্ছে না; দেশটির অধিকাংশ যুদ্ধজাহাজ ইরানের উপকূল থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে সরে গেছে।
মোহেবি আরও বলেন, নতুন অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান দূরবর্তী অবস্থান থেকেও শত্রুর সামরিক সরঞ্জামকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা রাখে। এই সক্ষমতা এ অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান ও সামরিক অভিযান চালানোর ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে জনবল ও সামরিক সরঞ্জামের তীব্র ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। এই ক্ষয় শুধু যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের ব্যয় বহন করতে হবে।
ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র বলেন, সমুদ্রে সামরিক অভিযান ও উপস্থিতি বজায় রাখতে বিপুল সরঞ্জাম, রসদ ও সহায়তা প্রয়োজন। ফলে এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত রাখা ক্রমেই কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।
মোহেব্বি বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে এত বেশি ব্যয় ও ক্ষয় সহ্য করতে সক্ষম নয় এবং এ অঞ্চলে দেশটির সামরিক উপস্থিতি গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইরান তার সমুদ্রপথ ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের আওতা সম্প্রসারিত করেছে। আগে জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ধারিত এলাকা শুধু হরমুজ প্রণালীতে সীমাবদ্ধ ছিল না; বর্তমানে এর পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
মোহেব্বি বলেন, এই বিস্তৃত এলাকার একটি অংশ চ'বাহার এলাকা থেকে শুরু হয়ে ওমান সাগর ও আরব সাগরের সমুদ্রপথও অন্তর্ভুক্ত করে। এর সুনির্দিষ্ট স্থানাঙ্ক ও বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, নির্ধারিত নীতিমালা ও নির্দেশনা অনুযায়ী এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে। সম্ভাব্য পদক্ষেপ ও বিধিনিষেধের বিস্তারিত তথ্যও উপযুক্ত সময়ে জানানো হবে।
সমুদ্র অবরোধ এবং তা মোকাবিলার কৌশল সম্পর্কে মোহেবি বলেন, সমুদ্র অবরোধ শুধু একটি প্রণালী বা নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও আরব সাগরের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে কার্যকর হতে পারে।
তিনি বলেন, এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপ ও হুমকি মোকাবিলায় ইরান বিভিন্ন কৌশল ও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এসব পদক্ষেপের বিস্তারিত যথাসময়ে ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করা হবে।
মোহেব্বি জোর দিয়ে বলেন, ইরান তার সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা ও কৌশলগত শক্তির ওপর নির্ভর করে কোনো শত্রুকে চাপ, হুমকি বা সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ দেবে না। যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দেবে।#
পার্সটুডে/এনএম/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।