'ইরানের বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটি আমেরিকানদের জন্য নারকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল'
জাহাজ-বিধ্বংসী নয়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা পেয়েছে ওয়াশিংটন: জেনারেল রেজায়ি
-
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মে. জেনারেল মোহসেন রেজায়ী
পার্সটুডে: ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি জোর দিয়ে বলেছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ওয়াশিংটন একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা পেয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, আঞ্চলিক জলসীমায় একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের কাছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নতুন জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করার পর ওয়াশিংটন ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা থেকে একটি “স্পষ্ট সতর্কবার্তা” পেয়েছে।
পার্সটুডের খবরে মেহর নিউজ এজেন্সির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ী আজ মঙ্গলবার খুব ভোরবেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত টাইমলাইনে লিখেছেন:
“সমগ্র পারস্য উপসাগরজুড়ে সমুদ্র নিষিদ্ধ অঞ্চল সৃষ্টি করে যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালানো হচ্ছে, তার জবাব অবরোধের পর্যায় পর্যন্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দেওয়া হবে।”
রেজায়ি আরও জোর দিয়ে বলেন: “মার্কিন রণতরী এবং সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের গৃহীত অপারেশনাল ও সামরিক অবস্থান মৌলিকভাবে পুনর্বিবেচনা তথা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।”
রেজায়ীর এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন তিনি রোববার একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে সংঘর্ষের এলাকা থেকে সরে যেতে বাধ্য করেছিল।
জেনারেল রেজায়ি বলেন, “প্রথমবারের মতো আমরা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর দিয়ে আমাদের জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছি। এই বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটি আমেরিকানদের জন্য নরকের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল এবং তারা পালিয়ে যায়।”
তিনি বলেন, এমনকি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও এই ঘটনাটি গোপন রাখতে পারেনি। তিনি ঘটনাটিকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের নৌ-অবরোধ দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ।
অর্থনৈতিক যুদ্ধের জবাব
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও নৌ-অবরোধের জবাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র পারস্য উপসাগরজুড়ে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধরেখা পর্যন্ত একটি সীমিত বা নিষিদ্ধ সামুদ্রিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নিতে পারে।
তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক যুদ্ধের জবাব দেওয়া হবে পারস্য উপসাগরজুড়ে অবরোধের সীমারেখা পর্যন্ত একটি সামুদ্রিক নিষিদ্ধ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/০৮