কাজভিনের হস্তশিল্প: আলামুতের গালিচা থেকে বুননশিল্প পর্যন্ত এক জীবন্ত ঐতিহ্য
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i162954-কাজভিনের_হস্তশিল্প_আলামুতের_গালিচা_থেকে_বুননশিল্প_পর্যন্ত_এক_জীবন্ত_ঐতিহ্য
পার্সটুডে: ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত কাজভিন প্রদেশ রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে। সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের পাশাপাশি এই প্রদেশে রয়েছে হস্তশিল্প ও লোকশিল্পের বহু সমৃদ্ধ ঐতিহ্য।
(last modified 2026-09-09T10:38:41+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬ ১৬:২৮ Asia/Dhaka
  • কাজভিনের হস্তশিল্প: আলামুতের গালিচা থেকে বুননশিল্প পর্যন্ত এক জীবন্ত ঐতিহ্য

পার্সটুডে: ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত কাজভিন প্রদেশ রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে। সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের পাশাপাশি এই প্রদেশে রয়েছে হস্তশিল্প ও লোকশিল্পের বহু সমৃদ্ধ ঐতিহ্য।

প্রেস টিভির বরাত দিয়ে পার্স টুডে জানাচ্ছে, কাজভিনের অনেক হস্তশিল্পের ঐতিহ্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। বিশেষ করে এসব শিল্প সংরক্ষণ, তৈরি করা এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলামুতের রঙিন গালিচা থেকে শুরু করে সূক্ষ্ম পেন-বাফি (ফিতা বোনা শিল্প), মওজ-বাফি (উলের চাদর বোনা) এবং দেহ-ইয়েক-দুজি (এক ধরণের বিশেষ সুচিশিল্প)- প্রতিটি শিল্পের মধ্যেই লুকিয়ে আছে কাজভিনের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্থানীয় মানুষের বহু বছরের অভিজ্ঞতা।

তবে এই হস্তশিল্পগুলো নিছক অতীতের স্মৃতিচিহ্ন নয়। আজ কাজভিনের শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী কৌশল, নকশা ও মোটিফ সংরক্ষণের পাশাপাশি সেগুলোকে সমকালীন রুচি ও বাজারের সঙ্গে মানানসই করার চেষ্টা করছেন। এভাবে তাঁরা এই বহু শতাব্দী প্রাচীন দক্ষতাগুলোকে আধুনিক জীবনে অর্থবহ স্থান দিচ্ছেন, যাতে ঐতিহ্যটি শুধু টিকে থাকার বদলে ক্রমাগত বিকশিতও হতে পারে।

চলুন দেখে নেওয়া যাক কাজভিনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ও তার পেছনের গল্প।

গালিমম: বয়নশিল্পের এক বর্ণিল ঐতিহ্য

আলামুতের গালিচা: রঙ ও নকশায় আলাদা পরিচয়

গালিম বা গালিচা ইরানের ঐতিহ্যবাহী সমতল বুননের একটি শিল্প। সাধারণত এগুলো মেঝেতে বিছানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে দেয়ালে সাজানোর জন্য কিংবা কম্বলের মতোও ব্যবহার করা যায়।

ঐতিহ্যগতভাবে গালিম তৈরি করা হয় প্রাকৃতিক তন্তু দিয়ে। এর মধ্যে ভেড়ার পশম, ছাগলের লোম, রেশম এবং বিভিন্ন গৃহপালিত প্রাণী থেকে পাওয়া তন্তু উল্লেখযোগ্য।

একসময় গালিমের প্রধান গুরুত্ব ছিল এর ব্যবহারিক দিক। অর্থাৎ ঘরের মেঝেতে বিছানো বা দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে গালিমের গুরুত্ব বদলেছে। এখন এটি শুধু ব্যবহার্য জিনিস নয়, বরং একটি শিল্পকর্ম হিসেবেও মূল্য পায়। আধুনিক বাড়ির সাজসজ্জাতেও গালিমের ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ঐতিহ্যবাহী গালিমে সাধারণত প্রাকৃতিক ও উদ্ভিদ থেকে তৈরি রং ব্যবহার করা হয়। কখনও কখনও তৈরি হওয়ার পর গালিমকে চা কিংবা আখরোটের খোসা দিয়ে ধুয়ে নেওয়া হয়। এতে রং আরও গাঢ় ও সুন্দর হয় এবং গালিমে স্বাভাবিক পুরোনো আবহ তৈরি হয়।

গালিম তৈরির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, অনেক সময় এটি কোনো নির্দিষ্ট নকশার ছক অনুসরণ করে বোনা হয় না। বুনন চলার সময় শিল্পীর নিজের চিন্তা, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা থেকে নকশা তৈরি হতে থাকে।

অর্থাৎ একজন শিল্পী আগে থেকে নির্দিষ্ট কোনো নকশা না দেখেও নিজের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে একটি গালিম বুনতে পারেন। ফলে প্রতিটি গালিমই হয়ে ওঠে আলাদা এবং স্বতন্ত্র।

সাধারণত গালিম আকারে কার্পেটের চেয়ে ছোট হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এগুলো ৩ মিটার বাই ৪ মিটারের বেশি হয় না।

কাজভিনে গালিম, জাজিম, কার্পেট ও ছোট আকারের কার্পেট বোনার ঐতিহ্য বহু পুরোনো। বিশেষ করে এই অঞ্চলের উপজাতি ও যাযাবর সম্প্রদায়ের মধ্যে এসব শিল্পের দীর্ঘদিনের প্রচলন রয়েছে।

এর মধ্যে আলামুতের গালিম বিশেষভাবে পরিচিত। উজ্জ্বল রং, আকর্ষণীয় নকশা এবং স্বতন্ত্র নান্দনিকতার কারণে আলামুতের গালিমের আলাদা পরিচয় তৈরি হয়েছে। এসব নকশায় যেমন শিল্পীর সৃজনশীলতা ফুটে ওঠে, তেমনি ফুটে ওঠে আলামুত অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও।

পান-বাফি: সূক্ষ্ম হাতে বোনা ফিতা

পান-বাফি: সরু ফিতার সূক্ষ্ম শিল্প

পান-বাফি, যাকে "কার্তি বাফ" বা "নাভারি বাফ"ও বলা হয়, আলামুত অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প। ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্পের অন্তর্ভুক্ত এই কৌশলে তৈরি হয় সরু বোনা ফিতা, যার প্রস্থ সাধারণত এক থেকে দুই সেন্টিমিটারের মধ্যে হয়।

দেখতে সূক্ষ্ম হলেও এই ফিতাগুলো যথেষ্ট মজবুত ও টেকসই। ঐতিহ্যগতভাবে এই অঞ্চলের নারীদের হাতে তৈরি এই ফিতা পোশাক ও ফ্যাশনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়—কলার, স্কার্ট ও হাতার প্রান্ত সাজাতে, বেল্ট, জুতার ফিতা, ফোনের স্ট্র্যাপ, টাই এবং শিশু বহনের ফিতা তৈরিতে। মোটা সুতা দিয়ে তৈরি হলে এগুলো তাঁবু বাঁধা বা ঘোড়া-উটের নাকবন্ধনী তৈরির মতো ব্যবহারিক কাজেও লাগে।

কার্তি বুননের প্রকৃত উৎস আজও অজানা। এই কৌশল কখন উদ্ভূত হয়েছিল বা কীভাবে ইরানে পৌঁছেছিল, তার সুনির্দিষ্ট নথি নেই—তবে এর প্রাচীনতম পরিচিত নমুনাগুলো প্রাচীন মিশরের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।

এতে প্রাকৃতিক এবং কিছু ক্ষেত্রে কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করা হয়, তবে ঐতিহ্যগতভাবে বুনিয়েনদারদের প্রধান উপকরণ ছিল রেশম সুতা, স্থানীয় ভাষায় যা পরিচিত "নখে কাজ" নামে। আলামুত অঞ্চলের বেশিরভাগ পান-বাফি নকশা কোনো নির্দিষ্ট নমুনা অনুসরণ না করে স্মৃতি থেকেই বোনা হয়, যা প্রতিটি কাজে বুনিয়েনদারের দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে সামনে নিয়ে আসে।

মৌজ-বাফি: কাজভিনের ইতিহাসে প্রোথিত বুননশৈলী

মৌজ-বাফি ও দাহ-ইয়েক-দুজি: জটিল বুনন ও সূক্ষ্ম সূচিকর্ম

মৌজ-বাফি—যা সাচিম-বাফি, মোশতে-বাফি বা জিলা-বাফি নামেও পরিচিত—দেখতে অনেকটা "চাদর-শব"-এর মতো হলেও এর নকশা ও গঠন অনেক বেশি জটিল। তাঁতের দৈর্ঘ্য বরাবর "কাপল-হুক" কৌশলে তৈরি স্বতন্ত্র জিগজ্যাগ ও পরস্পর সংযুক্ত প্যাটার্ন থেকেই এসেছে এর নাম।

ঐতিহ্যগতভাবে মৌজ ছোট-বড় চৌকো নকশায় বোনা হতো, আর গাঢ় নীল, কমলা ও গাঢ় লাল ছিল কুর্দিভাষী যাযাবর সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত রং; সঙ্গে সবুজ, ক্রিম, কালো ও নীলও ব্যবহার হতো বিস্তর।

মৌজ-বাফির কাজভিনে দীর্ঘ ইতিহাস আছে—ধারণা করা হয়, সাফাভি যুগ থেকেই এই অঞ্চলে এটি জনপ্রিয়তা পায়। ফার্সি ১৩৯০ সালে (২০১১-১২) এটি কাজভিন প্রদেশের নামে ইরানের জাতীয় অস্পর্শনীয় ঐতিহ্যের তালিকায় আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হয়।

অন্যদিকে, দাহ-ইয়েক-দুজি হলো কাজভিনের ঐতিহ্যবাহী সূচিকর্মের এক স্বতন্ত্র রূপ, যার শিকড় সাসানীয় যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত। "দাহ-ইয়েক" অর্থ "এক-দশমাংশ"—সুচ ও সুতা একই বিন্দু দিয়ে দশবার পার করিয়ে, তারপর একটি সেলাই দিয়ে কাপড়ে স্থির করা হয়। এতে তৈরি হয় বিশেষ উঁচু শোভাবর্ধক গঠন।

ঐতিহ্যগতভাবে এই কৌশল দিয়ে সাজানো হতো পোশাকের প্রান্ত, আয়নার ফ্রেম, মূল্যবান পর্দা, ব্যাগ, কাঁচির খাপ, টুপি, কুরআনের মলাট, টাকার থলে ও কলমদানি। সাটিন, তেরমেহ ও মখমলের মতো মজবুত কাপড় এতে বেশি ব্যবহৃত হয়, কারণ এগুলো বারবার সেলাই সহ্য করতে পারে। ইসলামি যুগে এই কৌশল ধর্মীয় শিল্পেরও অংশ হয়ে ওঠে—কাবা ও ইমামদের মাজারের আচ্ছাদন তৈরিতেও এর ব্যবহার হয়েছে।

দাহ-ইয়েক-দুজি; সেলাইয়ের একটি প্রাচীন কৌশল

এক জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভাণ্ডার

এই হস্তশিল্পগুলো কাজভিনের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের একটি অংশমাত্র। আজ পর্যন্ত এই প্রদেশের ৪৪টি ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও দক্ষতা ইরানের জাতীয় অস্পর্শনীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে মৌজ-বাফি, জেরেহ-বাফি, পান-বাফি, তেকে-দুজি, ঐতিহ্যবাহী বাঁধাইশিল্প, তাবাগ-সাজি, মোকারনাস-সাজি, তামার কারুশিল্প, কাচের পেছনে চিত্রাঙ্কন, কার্পেট বুনন, আরদাগের গালিম বুনন, জাজিম বুনন এবং তাকেস্তানের গিভেহ-বাফি ও গিভেহ-দুজি (ঐতিহ্যবাহী জুতা তৈরি)।

বর্তমানে এই প্রদেশে অন্তত ৭৫০০ শিল্পী ও কারিগর ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও হস্তশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। কাজভিন প্রদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পর্যটন ও হস্তশিল্প বিভাগের প্রধান মরিয়ম মাহদাভির ভাষ্যমতে, গত বছর এই খাত ১,৬৬৫ জনের কর্মসংস্থান তৈরি করেছে এবং ১৬ লাখ ডলার মূল্যের শৈল্পিক পণ্য রপ্তানিতে অবদান রেখেছে।

এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, কাজভিনের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প কেবল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশই নয়, বরং একটি জীবন্ত অর্থনৈতিক খাতও—যা জীবিকা তৈরিতে সহায়তা করছে এবং স্থানীয় কারুশিল্পকে অঞ্চলের বাইরের বাজারের সঙ্গে যুক্ত করছে।

ইরানের ক্যালিগ্রাফির রাজধানী হিসেবে পরিচিত কাজভিন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সেই শৈল্পিক ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছে, যা গড়ে উঠেছিল ধর্মীয় বিদ্যালয়, সাফাভি রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং গুরু-শিষ্য প্রশিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে।

কাজভিন: ইরানের দীর্ঘদিনের ক্যালিগ্রাফি ঐতিহ্যের স্পন্দন

নারী: ঐতিহ্যের রক্ষক এবং উদ্ভাবকও

কাজভিনের হস্তশিল্প খাতে নারীরা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কাজভিন প্রাদেশিক গভর্নরেটের নারী ও পরিবার বিষয়ক প্রধান মারিয়ম বিদখামের মতে, শুধু হস্তশিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য খাতেই ১২ হাজারেরও বেশি নারীর কাজের লাইসেন্স রয়েছে—যা এই প্রদেশে নারীদের উৎপাদনক্ষমতার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে।

অনেক নারী শিল্পী এই দক্ষতা পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্য থেকেই উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন, শিখেছেন মা ও দাদি-নানীদের কাছ থেকে। এভাবে তাঁরা শুধু বুনন-কৌশল নয়, বরং নকশা, রঙের প্যালেট এবং স্থানীয় জ্ঞানও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিচ্ছেন—যেমন আখরোটের খোসা, পেঁয়াজের খোসা বা তুঁত পাতার মতো প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার।

তবে নারীরা কেবল ঐতিহ্যের "রক্ষক" নন, তাঁরা এই ঐতিহ্যকে সমকালীন অর্থনীতির অংশে রূপান্তরিত করতেও অবদান রাখছেন। পণ্যের ব্যবহার নতুন করে সাজিয়ে, নতুন উপকরণ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং শহুরে বাজারে হস্তশিল্প পরিচিত করিয়ে তাঁরা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া দক্ষতাকে আধুনিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত করছেন।

গালিম আজ আর শুধু মেঝের আচ্ছাদন নয়—তা এখন সমকালীন অন্দরসজ্জার একটি উপাদান। একইভাবে পান-বাফির সূক্ষ্ম ফিতাও এখন জায়গা করে নিচ্ছে আধুনিক পোশাক, অনুষঙ্গ ও ফ্যাশন-ডিজাইনে।

এভাবেই কাজভিনের হস্তশিল্প নিছক অতীতের স্মৃতিচিহ্ন নয়—এগুলো এক জীবন্ত ঐতিহ্য, যা ধারাবাহিকতা, সৃজনশীলতা ও নিরন্তর উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে টিকে আছে এবং এগিয়ে চলেছে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের হাত ধরে।#

পার্সটুডে/এমএএআর/৮